তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পরীক্ষার ফি ৩০-৫০ টাকা

সংগৃহীত ছবি
১৬ বছর পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরছে পরীক্ষার ফি। ২০১০ সালে বাতিল হওয়ার পর থেকে এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য আলাদা করে কোনো ফি দিতে হতো না। কিন্তু পরীক্ষা পরিচালনার ব্যয় মেটাতে তা ফেরানো হচ্ছে বলে জানালেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াত হোসেন।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয়ে এক সম্মেলনে এ কথা জানান সচিব। হলদে পাখি ও প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আয়োজন করা হয়েছিল এই সম্মেলনের।
সাখাওয়াত হোসেন বললেন, ‘বর্তমানে প্রধান শিক্ষককে স্লিপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক সময় শিক্ষকদের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হয়। তাই শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় না করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে এ অর্থ নেওয়া যেতে পারে।’
এ ক্ষেত্রে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে ৩০, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪০ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৫০ টাকা। স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলোতে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য স্থানীয়ভাবে নামমাত্র পরীক্ষা ফি বা কাগজ কাটার অর্থ নেওয়ার প্রচলন ছিল। তবে ২০১০ সালে সরকার প্রাথমিক স্তরে বিনামূল্যে শিক্ষা ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নীতি জোরদার করার পর থেকে আনুষ্ঠানিক ফি নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য সরকার থেকে সরাসরি স্লিপ ফান্ড বা বার্ষিক অনুদান দেওয়া শুরু হয়, যা দিয়ে পরীক্ষার প্রশ্ন ছাপানো ও খাতা দেখার খরচ মেটানো হতো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিকে শ্রেণিভেদে পরীক্ষার ফি নির্ধারণের এই নতুন নির্দেশনার কথা জানালেন সচিব।
পরীক্ষার ফির জন্য নির্ধারিত অঙ্কের কথা জানিয়ে সচিব বলছিলেন, ‘এটি কোনো অন্যায় কাজ নয়, কারণ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।’ বর্তমানে স্লিপের বরাদ্দ সীমিত হলেও ভবিষ্যতের জন্য এই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী অর্থবছর বিদ্যালয়গুলো তুলনামূলক বেশি অর্থ পাবে বলেও আশার কথা জানালেন তিনি।
পরীক্ষার ফি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে গণশিক্ষা সচিব বললেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজন হলে আমি নিজেই ব্যাখ্যা দেব। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর চেয়ে বেশি হারে পরীক্ষার ফি নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দিয়ে পরীক্ষার মতো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’


