রাবিতে শিবিরের নবীনবরণে গোলাম আযমের বই, অন্যদের সমালোচনা

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নতুন শিক্ষার্থীদের বরণের আয়োজনে তাদের হাতে গোলাম আযমের বই তুলে দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। দণ্ডিত এক যুদ্ধাপরাধীর বই উপহার হিসেবে দেওয়ার সমালোচনা করেছেন অন্য সংগঠনের নেতারা।
আজ শনিবার ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে গোলাম আযমের লেখা ‘মনকে কাজ দিন’ বইটি উপহার দেওয়া হয়।
এর সমালোচনা করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী মারুফ। তার মতে, এটা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ওপর ‘আঘাত’।
তিনি বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানি হয়েছে। এসব মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন গোলাম আযম। অথচ আজ ছাত্রশিবির সেই গোলাম আযমের লেখা বই নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে।’
জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে মেহেদী বলেন, ‘তারা নিজেদের বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডে সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় দেখা যাচ্ছে। কারণ, তারা তাদের রাজনৈতিক পূর্বসূরিদের কর্মকাণ্ড ও অবস্থানকে সমর্থন করে সেই ধারাকে এখনো বহন করে চলেছে। গোলাম আযমের মতো একজন ব্যক্তির বই নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া তারই একটি উদাহরণ।’
বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতারাও এর সমালোচনা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বললেন, ‘নবীন বরণের আড়ালে বিতর্কিত রাজনৈতিক মতাদর্শের বই বিতরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গোলাম আযম বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার কারণে ইতিহাসে চিহ্নিত; তার লেখা বই নবীনদের হাতে তুলে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চার আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযম বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি পরে বাংলাদেশেও জামায়াতের আমিরের পদে ছিলেন।
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।
গোলাম আযমের বই নবীনদের উপহার দেওয়া নিয়ে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, ‘স্বৈরাচার আমলে আদালতকে প্রভাবিত করে অধ্যাপক গোলাম আযমকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। ‘মনকে কাজ দিন’ বইটি শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক চিন্তা পরিহার করে সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনে সহায়তা করবে। তাই আমরা লেখকের পরিবর্তে বইয়ের মানকে গুরুত্ব দিয়েছি।’



