দাখিলেও বাতিল ‘নীরব বহিষ্কার’
- দাখিল পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালার দুই অনুচ্ছেদ বাতিল

সংগৃহীত ছবি
নীরবে আর বহিষ্কার করা যাবে না দাখিল পরীক্ষার্থীদের। মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পর মাদ্রাসা বোর্ডও বাতিল করেছে বহিষ্কারের এ পদ্ধতি। ফলে কিছুদিন ধরে আলোচনায় থাকা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা ‘নীরব বহিষ্কার’ আতঙ্ক থেকে মুক্তি মিলল শিক্ষার্থীদের।
পরীক্ষায় কোনো অসদুপায় অবলম্বন করলে স্বাভাবিক নিয়মেই কোনো পরীক্ষার্থীকে করা হয় বহিষ্কার। অনেক সময় কাউকে প্রকাশ্যে বহিষ্কারের কারণে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার বা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তৈরি হয় নিরাপত্তা বিঘ্নিতের আশঙ্কা— সেসব পরিস্থিতিতে ওই পরীক্ষার্থীকে 'নীরব বহিষ্কার' করা যাবে বলে উল্লেখ ছিল দাখিল পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালার ২৬ অনুচ্ছেদে।
আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই ২৬ অনুচ্ছেদসহ এ-সংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদ বাতিল করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় আর ব্যবহার করা যাবে না এ পদ্ধতি।
বিএনপি সরকার ক্ষমতা নিয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই দেশে আলোচনা শুরু হয় নকল নিয়ে। কারণ, এর আগেরবার বিএনপির শাসনামলে নকলের বিরুদ্ধে দারুণ সরব ছিলেন তিনি, ঘোষণা করেছিলেন নকলের বিরুদ্ধে যুদ্ধও। তিনি ফের শিক্ষামন্ত্রী হওয়ায় নকল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই টেবিলে আসে নীরব বহিষ্কারের বিষয়টি।
সমালোচনার মুখে গত শনিবার এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা থেকে নীরব বহিষ্কারসংক্রান্ত ২৯ নম্বর বাতিল করা হয় ধারাটি।
সেই সময় এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‘নীরব বহিষ্কার বলে কোনো শব্দ থাকতে পারে না। কাউকে শাস্তি দিতে হলে ডিউ প্রসেস বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দিতে হবে। আপনি পরীক্ষা কক্ষে নকল করেছেন কি করেননি, তা সেখানেই প্রমাণিত হতে হবে। নীরবে বাড়িতে বসে কাউকে বহিষ্কার করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ ও শঙ্কার বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তার মতে, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনাসংক্রান্ত নীতিমালাটি তৈরি করা ১৯৬১ সালের। নীতিমালার পুরনো কোনো অসংগতিপূর্ণ কপি থেকে এ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে।

