কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলা নিয়ে বিরোধে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত একাধিক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত ছবি
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যার আগে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরটিভি প্রতিনিধি আবু তাহের মণ্ডল। এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে নজরুল প্রিমিয়ার লীগ (এনপিএল) ক্রিকেট ম্যাচ চলার সময় মাঠের একপাশে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফুটবল খেলছিলেন। ফুটবলটি ক্রিকেট খেলার জায়গায় চলে গেলে সেটি আনতে গিয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সিফাত নামে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় গালাগালি করার অভিযোগও ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে একপর্যায়ে পেছন থেকে এক শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শুভর মাথায় চড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারি শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সন্ধ্যা ৭টার দিকে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের সময় একপক্ষের কয়েকজনের হাতে রড ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। অন্যদিকে, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা এবং চারুকলাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হন।
আহত শিক্ষার্থীদের প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ৮টার দিকে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের রুবিউল এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাকিবের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। তাদের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের রাফি এবং চারুকলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের রোমানও মাথায় আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আহত শিক্ষার্থীরা সবাই আশঙ্কামুক্ত। তবে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের দিদার নামে এক শিক্ষার্থী হাসপাতালে ব্যান্ডেজ করিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে চলে গেছেন বলে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান জনিসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। প্রক্টরিয়াল বডির এক সদস্য জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখতে পান এবং উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় একপক্ষ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান জনিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় তারা সংঘর্ষের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকের পেশাগত কাজে বাধা ও ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেছেন তারা।




