শুধু জিপিএ ৫ পেলেই জাতি উন্নত হয় না, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুধু জিপিএ ৫ কিংবা উচ্চশিক্ষার সনদ অর্জন করলেই একটি জাতি উন্নত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার সংখ্যাগত প্রসারের চেয়ে গুণগত মান ও রূপান্তর অর্জন করা এখন সবচেয়ে জরুরি।’
আজ সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ— ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ‘২১তম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় ঢালাও ভর্তির প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উৎসাহিত করা একেবারেই ঠিক নয়। সবাই তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন না, আবার সবাই শিক্ষক কিংবা গবেষকও হবেন না।’ তিনি স্পষ্ট করেন, ‘যারা মূলত শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখবেন, শুধু তাদেরই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।’
শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার আলোকে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় শুধু কাগুজে সনদ বাড়ার ফলে সমাজে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাই বাড়বে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য ও দর্শন তুলে ধরে মন্ত্রী বললেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চাকরি দেওয়া কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো ক্ষেত্র নয়; এটি হবে গবেষণাভিত্তিক এমন একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে মুক্তচিন্তা, মেধার বিকাশ ও জ্ঞানচর্চা অব্যাহত থাকবে। বর্তমান জনসংখ্যার বাস্তবতায় কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব থাকলেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রকে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর এবং প্রকৃত মেধাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান এবং জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন জবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি উদযাপিত হয়।



