ছাত্রত্ব হারিয়েও হলে থাকেন ছাত্রদল নেতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নিশাত— সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নিশাত ড্রপআউট হয়ে ছাত্রত্ব হারিয়েছেন এবং হলের সিটও বাতিল করা হয়েছে। এরপর হল প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি বর্তমানে মতিহার হলের একটি কক্ষে অবস্থান করছেন।
আব্দুল্লাহ আল নিশাত বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিএসসি (অনার্স) পার্ট-২ পরীক্ষায় পরপর দুইবার অকৃতকার্য হন নিশাত। পরবর্তী বছর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তার পরের বছর আবারও অকৃতকার্য হন তিনি। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তিনি ড্রপআউট হয়ে ছাত্রত্ব হারান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বললেন, ‘আব্দুল্লাহ আল নিশাত ড্রপআউট হয়ে তার ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। তবে তিনি একাডেমিক কাউন্সিলে বিশেষ বিবেচনায় ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার আবেদন করেছেন বলে জেনেছি। সেখানে তার পুনরায় ভর্তি আবেদন মঞ্জুর হয়নি। তিনি আবারও একটি আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টির সঙ্গে বিভাগীয় প্রশাসনের কোনো এখতিয়ার নেই। এটি একাডেমিক কাউন্সিলই দেখবে।’
এদিকে, ছাত্রত্ব হারানোর পর গত ২ জুলাই নিশাতকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় মতিহার হল প্রশাসন। হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তার ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হলে তার ভর্তির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং তাকে ড্রপআউট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ড্রপআউট হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তার হলের সিট বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে হলের সব বকেয়া পরিশোধ করে তাকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ওই নির্দেশের পরও নিশাত হল ছাড়েননি। বর্তমানে তিনি মতিহার হলের ২৩২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
হলে অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করে আব্দুল্লাহ আল নিশাত বললেন, ‘আমার ছাত্রত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন দেওয়া আছে। প্রাধ্যক্ষের কাছে আমি কিছুদিন সময় নিয়ে এখন হলে অবস্থান করছি। যেহেতু এখনো নতুন করে আসন বরাদ্দ হয়নি, তাই সামনে অ্যালটমেন্ট পর্যন্ত হয়তো থাকার সুযোগ থাকতে পারে।’
তিনি আরও বললেন, ‘এর মধ্যে যদি আমি ছাত্রত্ব ফিরে পাই, তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। আর যদি না পাই, তাহলে হয়তো হল ছেড়ে চলে যেতে হবে। বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে হলে থাকা বা হল দখল করে রাখার মতো নয়।’
এ বিষয়ে মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম সরকার জানালেন, ‘ছাত্রত্বের কোনো তথ্য না পাওয়ায় তার আসনটি বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে তার হলে অবস্থান করার তথ্য আমার জানা ছিল না। তবে তিনি ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার একটি আবেদন করেছেন। একাডেমিক কাউন্সিল তার আবেদন গ্রহণ করেছে কি না, সেটি আমার জানা নেই। তার ছাত্রত্ব ফিরে না এলে আমরা ওই সিটে অন্য শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দিয়ে দেব।’





