জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শের আলীকে বহিষ্কার

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মো. শের আলী
শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. শের আলীকে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
আজ বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য মো. শের আলীকে সাংগঠনিক পদে থেকে বহিষ্কার করা হলো। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাসিরের অনুমোদনক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার সামাজিকমাধ্যমে শের আলীর বিরুদ্ধে ‘আমি জগন্নাথের শের আলী; আজ তোকে মেরেই ফেলব’ বলে তার ওপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে পোস্ট দিয়েছেন হাসানান আল আবিত (সাবায়েত) নামের এক শিক্ষার্থী। শের আলীর বিরুদ্ধে তাকে ও তার ছোট ভাইকে মারধর ও তার হবু স্ত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ তুলে পোস্ট করেন হাসানান আল আবিত। সাবায়েত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম আবর্তনের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী।
সামাজিকমাধ্যমে সাবায়েত জানান, গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর তিনি তার ছোট ভাই, হবু স্ত্রী এবং ছোট ভাইয়ের এক বন্ধুকে নিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন। একপর্যায়ে হবু স্ত্রীর সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য হলে তিনি সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে তার ছোট ভাই ও বন্ধু তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন অভিযুক্ত শের আলীসহ কয়েকজন। কোনো কিছু না জিজ্ঞেস করেই তারা সাবায়েতের ছোট ভাই ও তার বন্ধুকে মারধর শুরু করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে সাবায়েতের হবু স্ত্রী এগিয়ে আসেন। তারা একই পরিবারের সদস্য বলে জানালেও হামলা থামেনি। পোস্টে দাবি করা হয়, শের আলী অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।
শোরগোল শুনে সাবায়েত ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে পাশের একটি চায়ের দোকান থেকে পেরেকযুক্ত কাঠের তক্তা এনে শের আলী তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। এ সময় শের আলী বলেছেন, ‘আমি জগন্নাথের শের, তোকে আজ মেরেই ফেলব।’
ভুক্তভোগী আরও জানান, হামলার ঘটনায় ১৮তম ব্যাচের শাওন, ২০তম ব্যাচের রাব্বিসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন। এ সময় ভুক্তভোগীর হবু স্ত্রীকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তাকেও পেরেকযুক্ত তক্তা দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাবায়েত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বললেন, ‘অভিযোগকারী লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। প্রশাসন সেটি আমলে নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ডেকে তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে। এ ঘটনায় উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্যও শোনা হবে।’
তিনি জানান, ‘অভিযুক্ত শের আলীকে তলব করা হয়েছে। তার বক্তব্য শোনার পর প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজন হলে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও পর্যালোচনা করা হবে।’




