সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ঢাবি শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা তদন্তের দাবি এইচআরডিএসের

সংগৃহীত ছবি
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি (এইচআরডিএস), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মো. তারিফ আহাম্মেদ তুহিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে সংবাদ সংগ্রহের সময় আগামীর সময়ের সাংবাদিক মো. সিয়াম হোসেন গাজী, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সাংবাদিক মো. জহিরুল ইসলাম ও সাংবাদিক মো. তোফায়েল আহমেদ হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়িত থাকার অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
এইচআরডিএস বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেটিকে ব্যক্তিগত আচরণ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এর সঙ্গে শুধু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আচরণ, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার বিষয়ও জড়িত।
সংগঠনটি বলেছে, কোনো সংবাদ বা সাংবাদিকের কর্মকাণ্ড কারও অপছন্দ হলে প্রতিবাদ, বক্তব্য কিংবা আইনসম্মত অভিযোগের পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু শারীরিক হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থীকে তদন্তের আগেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা করেছে এইচআরডিএস। সংগঠনটির মতে, ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগে যেসব শিক্ষার্থীর নাম বা পরিচয় এসেছে, তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা পৃথকভাবে যাচাই করতে হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
ঘটনার সময় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে এইচআরডিএস। সংগঠনটি জানতে চেয়েছে, পুলিশি অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কীভাবে বিঘ্নিত হলো এবং হামলা প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল।
এইচআরডিএসের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা, ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকায় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর নীতিমালা ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে এইচআরডিএস বলেছে, মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে ব্যক্তি, সংগঠন বা পরিচয়ভেদে কোনো দ্বৈত মানদণ্ড থাকতে পারে না। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি থেকে সংগঠনটি সরে আসবে না।
একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে দায়ী করা বা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ঢালাও নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর বিরোধিতা করেছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, দায় ব্যক্তির, পরিচয়ের নয়। তবে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা।
সাংবাদিকের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের অধিকার এবং শিক্ষার্থীদের মর্যাদা- সবই মানবাধিকারের অংশ উল্লেখ করে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।




