স্বপ্ন থেকে সম্ভাবনার ঠিকানায় পাবিপ্রবি, ১৯ বছরে পদার্পণ

সংগৃহীত ছবি
স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার ১৮ বছর পেরিয়ে ১৯ বছরে পদার্পণ করেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসব, আনন্দ ও গর্বের আবহ।
পাবনা শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশে রাজাপুরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০৮ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতে তিনটি অনুষদের অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), গণিত ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। সে সময় শিক্ষার্থী ছিলেন মাত্র ১৮০ জন, শিক্ষক ১২ জন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন ৫ জন।
সীমিত পরিসরের সেই প্রতিষ্ঠান এখন দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ২২০ জন শিক্ষক, ১১৫ জন কর্মকর্তা ও ২০০ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজারে।
বর্তমানে পাঁচটি অনুষদের অধীনে ২১টি বিভাগে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম হচ্ছে পরিচালিত। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান এবং জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়েছিল রাজাপুরের টিটিসি ক্যাম্পাসে অস্থায়ীভাবে। সময়ের ব্যবধানে সেই অস্থায়ী ক্যাম্পাস আজ প্রায় ৩০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছে। একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে উঠেছে এখানে।
পাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। অনেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। কেউ দায়িত্ব পালন করছেন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। আবার অনেকে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। তাদের সাফল্যের গল্পে বারবার ফিরে আসে পাবিপ্রবিতে কাটানো সময়ের স্মৃতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আরিফ হোসেন বলছিলেন, পাবিপ্রবি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের স্বপ্ন গড়ার জায়গা। ছোট পরিসর থেকে আজকের অবস্থানে আসা সত্যিই গর্বের। আমরা চাই ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিক্ষার মানে পাবিপ্রবি দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হোক।
ইইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া পারভীন বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সম্পর্ক এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। পাবিপ্রবির একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি গর্বিত।
সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী জীম মন্তব্য করেন, শুরুতে যেভাবে সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি পথচলা শুরু করেছিল, আজকের এই অগ্রগতি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা আশা করি আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পাবিপ্রবি আরও পরিচিতি লাভ করবে।
১৯ বছরে পদার্পণের এ দিনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একদিন জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।




