সাত বছর পর রাশেদকে ডাকসুর জিএস ঘোষণা
- সাময়িক বরখাস্ত ৪ শিক্ষক

মো. রাশেদ খান
২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জিএস পদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন মো. রাশেদ খান। ৭ বছর ৫ মাস পর সেই নির্বাচনে তাকে ডাকসুর জিএস ঘোষণা করা হয়েছে। সেই নির্বাচনে আগের ঘোষিত বিজয়ী কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী আগামীর সময়কে বললেন, ‘যেহেতু তৎকালীন জিএস গোলাম রব্বানী অনিময় করে ভর্তি হয়েছিলেন, সেহেতু তার এই ভর্তি বাতিল করা হয়। আর ভর্তি বাতিল হওয়ার কারণে তাকে জিএস হিসেবেও অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া রাশেদ খানকে জিএস ঘোষণা করে সিন্ডিকেট।’
একই বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত কাজে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা মেলায় একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালও গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া এক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করে বিজ্ঞপ্তি অমান্য করে অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আরেক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বললেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। যার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।’
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পরও সংগীত বিভাগে অনিয়ম করে শিক্ষক হওয়ার কারণে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন থেকে দেওয়া বিভিন্ন দাবি-দাওয়া খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক, প্রক্টর ইসরাফিল প্রাংকে সদস্য সচিব এবং ছাত্রীদের পাঁচটি হলের প্রভোস্টদের সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে।







