বহিরাগত ট্রেজারার নয়, জবি থেকেই নিয়োগের দাবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জবি শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে এ দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ‘টিম জগন্নাথ’ গড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দাবি উপেক্ষা করে বাইরে থেকে ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হলে কর্মবিরতি এবং প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ রবিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির নেতাদের পাশাপাশি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এ দাবির প্রতি সংহতি জানান।
লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক দাবি করেন, নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি কোষাধ্যক্ষ তৈরি করা না যায়, তবে সেটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যর্থতার পরিচায়ক। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, বাস্তবতা ও সমস্যাগুলো বাইরের যেকোনো ব্যক্তির তুলনায় ভালোভাবে বুঝবেন। বারবার বিশ্ববিদ্যালয়কে উপেক্ষা করে বাইরে থেকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া বৈষম্যের শামিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যদি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য বা কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন বহিরাগতকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪৫ জন অধ্যাপকসহ মোট ৭৩২ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাই ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদসহ যেকোনো অনুষদ থেকে যোগ্য শিক্ষককে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
শিক্ষক সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাসুদ রানা মন্তব্য করেন, জবি থেকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ না দেওয়া হলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত ৮০ শতাংশ শিক্ষক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নেওয়া উচিত।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত তুলে ধরে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, নির্দিষ্ট কোনো শতাংশ নয়, মেধার ভিত্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ আরও বেশি থাকা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির মূখ্য সংগঠক ফেরদাউস শেখ অতীতের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে মন্তব্য করেন, আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত অনেককে পুরস্কার হিসেবে জবিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈষম্য আর দেখতে চান না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, বাইরে থেকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবে।
শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, শিক্ষক সমিতি শুধু শিক্ষকদের সংগঠন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত 'টিম জগন্নাথ' বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যৌক্তিক দাবিগুলো আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।





