ঢাবিতে নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে শিক্ষকদের স্মারকলিপি

সংগৃহীত ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দল’-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষক’ পরিচয়ে শতাধিক শিক্ষক।
সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে দেওয়া হয় এ স্মারকলিপি। এ সময় ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা দাবি করেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এলেও গত দেড় দশকে নীল দল ক্ষুণ্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে পালন করেছে সক্রিয় ভূমিকা।
তাদের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নীল দলের ভূমিকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে জন্ম দেয় ব্যাপক ক্ষোভের। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট নীল দলের শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাদা দলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তোলার হুমকি দেন।
এতে আরও বলা হয়, ৩ আগস্ট নীল দলের ব্যানারে আয়োজিত র্যালি ও মানববন্ধনে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী করা হয় আন্দোলনকারীদের। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়, ওই সময় নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন জানান এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। এমনকি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগের কাছে সরবরাহের অভিযোগও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়।
শিক্ষকরা আরও দাবি করেন, ১৭ জুলাই সিন্ডিকেটের এক সভায় হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। বরং ক্যাম্পাস ত্যাগের সময় হামলার শিকার হন অনেক শিক্ষার্থী।
স্মারকলিপিতে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকাও সমালোচনা করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেয়। উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে নীল দলের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ভিন্নমতের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতিকে অস্বীকার করেছেন এবং ভিন্নমত দমনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নীল দলের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।




