৮০০ শিক্ষার্থী নিয়ে স্টেম ফেস্ট শুরু
মানারাত থেকেই একদিন উঠে আসবে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী, প্রত্যাশা অধ্যক্ষের

ছবি: আগামীর সময়
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট ২০২৬-২৭’। এতে রাজধানীর ৮৭-৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) উদ্যোগে কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উৎসবের প্রথম দিনে সকাল ৯টায় তৃতীয় শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গণিত অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং সপ্তম শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জীববিজ্ঞান ও রসায়ন অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রোবোটিকস ও মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম, দুপুর আড়াইটায় ট্রেজার হান্ট এবং বিকাল সাড়ে ৩টায় সপ্তম শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল আলম জানান, এবারের উৎসবে রাজধানীর প্রায় ৮৭ থেকে ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি, একদিন মানারাত থেকে একজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পাবেন। আসুন, আমরা সেই স্বপ্ন দেখি এবং এর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিই।’
বর্তমান বিশ্বে শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে অধ্যক্ষ বলেন, নতুন উদ্ভাবন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতাও শিক্ষার্থীদের অর্জন করতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ বিপণন, শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি।
বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে পারে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপর মানবসভ্যতার সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, আবিষ্কার ও গবেষণার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। যারা আজ নিজেদের প্রকল্প ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে, তারাই আগামী দিনে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞানকে নিয়মতান্ত্রিক চিন্তা ও অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবসভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই বিজ্ঞান মানুষের জীবন সহজ করেছে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। মহাকাশ গবেষণা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের অগ্রগতি মানুষের সামনে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে।
বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের অনুসন্ধিৎসা তুলে ধরতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সংকল্প’ কবিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। তিনি বলেন, প্রায় এক শতাব্দী আগে নজরুল তার কবিতায় মহাকাশ অনুসন্ধান ও মঙ্গল গ্রহ থেকে সংকেত পাওয়ার যে কল্পনা তুলে ধরেছিলেন, তা মানুষের বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা ও অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষার অসাধারণ প্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনও জরুরি। বৈজ্ঞানিক সাফল্য মানুষের জীবনকে সহজ ও সমৃদ্ধ করলেও নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে তা প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। তাই জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবকল্যাণে সেই জ্ঞান প্রয়োগের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ুবিদ্যা ও আবহাওয়াবিদ্যাসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান।
মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী ফাইরুজ মাছনুন আশরাফ বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিযোগিতা আমাদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বাস্তবজীবনে প্রয়োগ, বিশ্লেষণী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করছে।’
স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। স্টেম ফেস্টের প্রতিটি আয়োজন শিক্ষার্থীদের শেখার আনন্দ, সৃজনশীলতা, সহযোগিতা ও বাস্তবমুখী চিন্তার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন শুধু প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয়, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করে এবং নিজেদের জ্ঞান মানবকল্যাণে প্রয়োগ করতে শেখে, সেটিই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরার অধ্যক্ষ ড. মো. মোশাররফ হোসেন, মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, গুলশানের ভাইস প্রিন্সিপাল মো. আনোয়ারুল করীম, অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার সমন্বয়ক এম এ মহসীন কোরাইশী এবং স্টেম ফেস্টের বালিকা শাখার আহ্বায়ক রোকসানা খানমসহ অন্যরা।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল ৯টা থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় থাকবে ট্রেজার হান্ট। বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হবে। এই ফেস্টে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে দৈনিক আগামীর সময়।





