আগামীর সময় ক্যারিয়ার ক্লাবের যাত্রা শুরু, আইইউবিতে আগামীর মঞ্চে তরুণ মুখের কোলাহল

‘ক্যাম্পাস টু করপোরেট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন
একরাশ তরুণ মুখের কোলাহল, চোখে বড় হওয়ার স্বপ্ন আর বুকভরা উদ্দীপনা। সকাল ১০টায় বৃষ্টিমুখর আবহাওয়ার মধ্যেও রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) অডিটোরিয়াম মুখরিত। উপলক্ষ ক্যারিয়ার বিষয়ক বিশেষ আয়োজন ‘ক্যাম্পাস টু করপোরেট’ এ অংশ নেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়টির সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে আয়োজনটি রূপ নেয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে দৈনিক আগামীর সময়ের ‘ক্যারিয়ার ক্লাব’ ও আইইউবির ‘অফিস অব ক্যারিয়ার গাইডেনস, প্লেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশনস’। এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই মূলত উদ্বোধন করা হয়েছে আগামীর সময় ক্যারিয়ার ক্লাবের।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কানাডীয় শিক্ষাবিদ এবং আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ লুন্ড স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি আগামীর সময়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। একইসাথে একে শেখার সুযোগ বলেও উল্লেখ করেছেন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষার্থীদের চাকরির চেষ্টা করতেই হয়। তাই আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের উচিত তাদের ক্যারিয়ার নির্বাচন করা এবং সেই মতো নিজেকে প্রস্তুত করা। সব শেষে তরুণদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করেন।
আয়োজনে উপস্থিত হয়ে আগামীর সময় পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা মামুন শোনালেন এই ক্লাব প্রতিষ্ঠার পেছনের গল্প। একটি পত্রিকা প্রকাশের মাত্র দেড় মাসের মধ্যে কীভাবে সেটি শুধু খবর প্রকাশের গণ্ডি পেরিয়ে তরুণদের ক্যারিয়ারের সারথি হতে পারে, সেই ধারণাই ফুটে উঠল তার বক্তব্যে।
মোস্তফা মামুন বলছিলেন, ‘গণমানুষের সঙ্গে পত্রিকার যোগাযোগটা অনেক ঘনিষ্ঠ। সেই মেলবন্ধনের সুযোগ কাজে লাগাতেই ক্যারিয়ার ক্লাব করার চিন্তা প্রথম মাথায় আসে।’
এ সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন বিভিন্ন বয়সীদের জন্য আগামীর সময়য়ের তিনটি ক্লাব সক্রিয় বলেও উল্লেখ করেন। এগুলো হলো ১২ বছর পর্যন্ত শিশুদের প্রতিভা বিকাশে কিডস ক্লাব, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার ক্লাব এবং ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের আনন্দময় সময়ের জন্য গোল্ড ক্লাব।
এছাড়াও শিগগির ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য আরেকটি ক্লাব করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আগামীর সময়ের সম্পাদক। বক্তব্যের শেষের দিকে মোস্তফা মামুন বলেছেন, ‘আমরা সবাই একটা স্বপ্ন নিয়ে বড় হই। সেই স্বপ্নে সাফল্যও প্রয়োজন। আর সাফল্যের সঙ্গে জীবনে শান্তি এবং আনন্দও থাকতে হবে। আমরা সেই ভারসাম্যপূর্ণ সফল প্রজন্মই গড়তে চাই।’ এ সময় গল্পের ছলে তিনি ক্যারিয়ার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন জনপ্রিয় করপোরেট ট্রেইনার ও মোটিভেশনাল স্পিকার গোলাম সামদানী ডন। তিনি তার চিরাচরিত আড্ডার মেজাজে তুলে ধরেন তরুণ প্রজন্মের ক্যারিয়ারের কঠিন বাস্তবতার গল্প। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তার সোজাসাপটা বার্তা— ‘জীবন একটাই, তাই আমাদের যা করার তা এখনই করতে হবে। কঠোর পরিশ্রম করে আমরা জীবনে যা চাই তা পেতে হবে, যাতে জীবনের শেষ বয়সে গিয়ে কোনো আপসোস না থাকে।’
দেশে বর্তমানে ৬০-৭০ লাখ বেকার তরুণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এই বিশাল প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে লক্ষ্যে স্থির থেকে নিজেকে অনন্যভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’
এছাড়া পড়াশোনায় অন্তত ৩.৫ সিজিপিএ থাকা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। পাশাপাশি তরুণদের এই বয়সে নৈতিক স্খলন ও মাদক থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দেন গোলাম সামদানী ডন।
প্রায় দুই ঘণ্টার এই আয়োজনের শেষ দিকে ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। আনন্দ, উদ্দীপনা ও স্বভাবসুলভ রসবোধের মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেছেন আগামীর সময় ক্যারিয়ার ক্লাবের পরিচালক ও শিশুসাহিত্যিক দন্ত্যস রওশন। আর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইইউবির অফিস অব ক্যারিয়ার গাইডেন্স, প্লেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশনস পরিচালক মনজুরুল হক খান।
দীর্ঘ সময়ের এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের আলসেমি দূর করতে এবং চাঙ্গা রাখতে মাঝে মাঝেই আয়োজন করা হয় দারুণ সব ‘আইস ব্রেকিং’ সেশন। এ সময় চমৎকার সব খেলা আর বুদ্ধিবৃত্তিক খুনসুটিতে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আগামীর সময় পত্রিকার ডেপুটি হেড অব ক্রিয়েটিভ, রিসার্চ এন্ড ইভেন্টস নাজির হোসেন মোহাম্মদ নাজির হোসেন, সেলস্, মার্কেটিং অ্যান্ড অপারেশন্স ডিরেক্টর আহসানুজ্জামান রিমনসহ আরও অনেকে।






