সেশনজট ঠেকাতে শিক্ষামন্ত্রীর নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফাইল ছবি
শিক্ষার্থীদের সেশনজটমুক্ত রাখতে নতুন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, প্রতি বছরের ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি ফল প্রকাশের পরপরই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের।
আজ শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে 'সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারী বদলি নীতিমালা ২০২৬' সংক্রান্ত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এইচএসসির দুই বছরের শিক্ষাক্রম দুই বছরের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা করছি, যাতে কোনো সেশনজট তৈরি না হয়। সেজন্য আমরা সবকিছু সমন্বয় করে এগোচ্ছি। আমরা পরীক্ষার শেষ সময় হিসেবে ধরছি ডিসেম্বর মাসকে। এর মধ্যেই সিলেবাস শেষ করে সম্পন্ন করা হবে পরীক্ষা। এরপর দ্রুত ফল প্রকাশ করে ভর্তি পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের জীবনে অযথা এক বা দুই বছর নষ্ট না হয়।
তা ছাড়া ফলা প্রকাশের পর দ্রুত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ফল প্রকাশের পরপরই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার। এর ফলে কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং শিক্ষার্থীরা সরাসরি এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে যেতে পারবে।
শিক্ষামন্ত্রী যোগ করেন, এই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে যেন পরীক্ষা, ফলাফল ও ভর্তি। এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি ধারাবাহিকতার মধ্যে আনা যায় এবং কোনো গ্যাপ তৈরি না হয়।
এ সময় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা খুব ভালো হচ্ছে এবং পরীক্ষার্থীরা উৎফুল্লতার সঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষা খুব সুন্দর হচ্ছে। পরীক্ষায় শিক্ষক ও অভিভাবকরা সহযোগিতা করছেন। ছাত্রছাত্রীরাও উৎফুল্লতার সঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছে। নকলবিহীন পরীক্ষা হওয়ায় সবার মানসিকতায় একটা পরিবর্তন এসেছে। সবাই মনে করছে যে, লেখাপড়া করতে হবে এবং লেখাপড়া করেই আমরা পরীক্ষা দেব। সেই মানসিকতায় সবাই ফিরে আসছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

