Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
অসহায় প্রাণী থেকে মানুষ, সবার পাশেই বাচ্চু
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় অর্থনীতি

বাংলাদেশকে পথ দেখাল আইএইএ

বাড়লে বিদ্যুতায়ন, কমবে জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা

নাজমুল লিখন
নাজমুল লিখন
আগামীর সময় প্রতিবেদক
agamir somoy
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৯
বাড়লে বিদ্যুতায়ন, কমবে জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা

পরিবহন, শিল্প ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে বাংলাদেশ। এতে খরচ কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইএইএ) নতুন ‘স্পেশাল রিপোর্ট অন ইলেকট্রিফিকেশন’ প্রতিবেদনে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিকারক উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিদ্যুতায়নের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার সুবিধা বেশি।

বাংলাদেশ আলাদাভাবে কত অর্থ সাশ্রয় করতে পারে, তার কোনো হিসাব প্রতিবেদনে নেই। তবে আইইএর হিসাবে, দ্রুত বিদ্যুতায়ন হলে চীন ছাড়া অন্যান্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে বছরে ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমাতে পারে। এটি ২০২৫ সালে এসব দেশের মোট জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের এক-চতুর্থাংশের বেশি।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশে এখন বড় আকারে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও কয়লা আমদানি করা হয়। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে কিংবা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশের জ্বালানি খাতেও চাপ তৈরি হয়।

আইইএর প্রতিবেদনে পরিবহন, বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং কৃষিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিদ্যুতায়নের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়েছে।

আইইএর হিসাবে, দ্রুত বিদ্যুতায়ন হলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বে দৈনিক ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এর প্রায় ৮০ শতাংশই হবে জ্বালানি আমদানিকারক অঞ্চলে।

পরিবহনে বৈদ্যুতিক যান

আইএইএ বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর শহর সাধারণত ঘনবসতিপূর্ণ এবং মানুষের দৈনিক যাতায়াতের দূরত্ব তুলনামূলক কম। তাই এসব দেশে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যান ব্যবহারের বড় সুযোগ রয়েছে।

বর্তমানে জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক দুই ও তিন চাকার যানের ব্যাটারির সক্ষমতা উন্নয়নশীল দেশের মানুষের গড় দৈনিক যাতায়াতের প্রায় ১০ গুণ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য যথেষ্ট। আবার তেলচালিত যানের তুলনায় পরিচালন ব্যয় কম হওয়ায় বৈদ্যুতিক যান কেনার বাড়তি খরচ সাধারণত তিন থেকে ছয় বছরের মধ্যে উঠে আসতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ তেল আমদানিনির্ভর। তাই পরিবহনে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে তেল আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণেও সুযোগ

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প।

ইস্পাত ও সিমেন্টের মতো ভারী শিল্পে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তবে বস্ত্র, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধ, ওষুধ ও পানীয় শিল্পে তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় গরম পানি, বাষ্প ও শুকানোর প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।

এসব কাজে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বয়লার ও শিল্পে ব্যবহৃত হিট পাম্প ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ বলে মনে করে আইইএ।

সংস্থাটির হিসাবে, বিশ্বে শিল্প খাতে নিম্ন ও মাঝারি তাপমাত্রার কাজে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ৪০ শতাংশ বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণকে এ ক্ষেত্রে বিশেষ সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেছে আইইএ।

তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এ সুযোগ দেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

আইএইএ বলছে, বিদ্যুতায়নের আরেকটি সুবিধা আসতে পারে রপ্তানি বাণিজ্যে। আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সরবরাহব্যবস্থায় কার্বন নির্গমন কমানোর ওপর ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে শিল্পে কম কার্বন নিঃসরণকারী বিদ্যুতের ব্যবহার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতেও সহায়তা করতে পারে।

কৃষিতে সৌরচালিত সেচ

কৃষিতেও বিদ্যুতায়নের বড় সুযোগ দেখছে আইএইএ। সংস্থাটির হিসাবে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষির অবদান ১ থেকে ২ শতাংশ হলেও দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকায় তা ১৭ থেকে ১৯ শতাংশ। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষির বিদ্যুতায়নের প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

বিশেষভাবে সেচের কথা বলেছে আইইএ। যেসব এলাকায় গ্রিডের বিদ্যুৎ নেই বা সরবরাহ নির্ভরযোগ্য নয়, সেখানে ডিজেলচালিত পাম্পের বিকল্প হতে পারে সৌরচালিত সেচপাম্প। কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার ও রেফ্রিজারেশনেও বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ জরুরি

তবে পরিবহন, শিল্প ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। তাই পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে আইএইএ।

সংস্থাটি বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিদ্যুতায়নের অন্যতম বড় বাধা অনির্ভরযোগ্য ও ব্যয়বহুল গ্রিড বিদ্যুৎ। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকলে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি বেশি দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও শিল্পকারখানাগুলো ডিজেল বা গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারে।

তাই বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রয়োজন হবে বিদ্যুৎ সংরক্ষণব্যবস্থা বা ব্যাটারি, আধুনিক গ্রিড এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনারও।

আইএইএর হিসাবে, দ্রুত বিদ্যুতায়নের জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বে বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের গতি গত এক দশকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়াতে হবে।

উৎসও গুরুত্বপূর্ণ

তবে শুধু বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ালেই জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমবে না। সেই বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আইএইএ।

সংস্থাটি বলছে, বিদ্যুতায়নের সুফল সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাবে যদি বাড়তি বিদ্যুৎ দেশীয় ও কম কার্বন নিঃসরণকারী উৎস থেকে আসে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্রিড ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণব্যবস্থা সম্প্রসারণ করলে জ্বালানি নিরাপত্তার সুবিধা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাই পরিবহন বা শিল্পে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সেই জায়গায় যদি আমদানি করা এলএনজি বা তেল দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়, তাহলে আমদানিনির্ভরতা কমার বদলে তার একটি অংশ মূলত এক খাত থেকে অন্য খাতে স্থানান্তরিত হতে পারে।

বিশ্বের মোট চূড়ান্ত জ্বালানি ব্যবহারে এখন বিদ্যুতের অংশ প্রায় ২৩ শতাংশ। আইএইএ বলছে, বর্তমানে বিদ্যমান প্রযুক্তি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করেই এ হার প্রায় ৩৩ শতাংশে নেওয়া সম্ভব। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ৩৫ শতাংশে নেওয়ার একটি বৈশ্বিক লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে সব দেশের জন্য একই পথ প্রযোজ্য নয়, এমন মতও দিয়েছে আইএইএ। তারা বলছে, একটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, জ্বালানির দাম, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং অর্থায়নের সুযোগের ওপর বিদ্যুতায়নের গতি নির্ভর করবে।

আইএইএবিদ্যুৎজ্বালানি
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন: