মূল্যস্ফীতিতে নাভিশ্বাস
- মে মাসে বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে
- বিবিএস’র মাসিক প্রতিবেদন
- সামান্য বেড়েছে মজুরি হার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি গত মে মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। এ হার গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের পর এটি সবচেয়ে বেশি। এপ্রিল মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। এদিকে মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে এমনটি হয়েছে এবং আগামী মাসগুলোয় এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। কেননা, আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্য কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। এ অবস্থায় ব্যাপক চাপে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। রবিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কনজুমার প্রাইস ইনডেস্ক প্রতিবেদনে মে মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য পণ্যেও মূল্যষ্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ২৩ শতাংশে। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শহরে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।
সূত্র বলছে, গত এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফা বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। গত ১৯ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। পরে ৩১ মে আবারও এক দফা দাম বাড়ানো হয়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় জীবনযাত্রার ওপর ফেলেছে নেতিবাচক প্রভাব। পরিবহন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই বেড়ে গেছে দাম। সেই প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে মে মাসে।
এদিকে মজুরি হার বেড়েছে খুব সামান্যই। মে মাসে সাধারণ মজুরি হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এছাড়া কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ, শিল্প খাতে মজুরি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। এছাড়া সেবা খাতে মজুরি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জেনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলছিলেন, ‘আমরা কোনো তথ্য লুকোচুরি করছি না। আগের সরকারের মতো পরিসংখ্যান কার্পেটের নিচে লুকানো হচ্ছে না। এখন বিবিএস যা তথ্য পাচ্ছে তাই প্রকাশ করছে।’




