অর্থ উপদেষ্টা
অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে নতুন মডেল প্রয়োজন

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে নতুন কাঠামোতে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গতকাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) কার্যালয়ে বাজেট আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ ও অর্থনীতিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করার নতুন মডেলে যেতে হবে এবং পুনরুদ্ধার-পুনর্বহাল-পুনর্গঠন— এ তিন স্তরে এগোতে হবে। তার মতে, এবারের বাজেটে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করকাঠামো নির্ধারণ করে নীতির ধারাবাহিকতার বার্তা দেওয়া হয়েছে, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানোর পথনকশাও রাখা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে— এসবের ফলে বিনিয়োগ গতি পাবে। তিনি সরকারের কাজের খোলামেলা সমালোচনা চেয়ে বলেছেন, অতীতে প্রশংসা শুনে শুনেই দেশ বিপদে পড়েছিল। শুধু করহার বা পরিসর বাড়ানো নয়, সুশাসন ও পদ্ধতিগত সংস্কারই জরুরি। পাশাপাশি কর অব্যাহতি, ফাঁকি ও জালিয়াতি রোধে ইনকাম ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট খাতে টাস্কফোর্স গঠন করে মাসভিত্তিক তদারকি চলছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান।
তিনি বলেছেন, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৫ শতাংশ (৩ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা) আদায় করতে পেরেছে, যেখানে আগামী অর্থবছরে লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা; প্রায় ১৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে এবং চাপের মুখে মাঠপর্যায়ে করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, নির্দিষ্ট খাত বা বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা সম্প্রসারণই সঠিক পথ; অতিরিক্ত নোটিস বা তদারকি ব্যবসার ব্যয় বাড়াবে এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সাবেক সিইও নাসের এজাজ বিজয় বাজেটকে ‘মানবিক’ বললেও বাস্তবায়নকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ এবং ব্যাংক খাত সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন ছিল বলে মত দেন তিনি।
পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, গত পাঁচ বছরে অর্থনীতি একরকম ‘প্রবৃদ্ধির ধাক্কা’ সামলেছে; অন্তর্বর্তী সরকার কিছুটা স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারলেও ব্যাংক খাতের বিপর্যয়ের কারণে চাপ এখনো প্রবল। তার মতে, ব্যাংক খাত ঠিক না হলে এটিই অর্থনীতির সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হয়ে উঠতে পারে, তাই এর পুনরুদ্ধারকে প্রধান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বক্তারা একমত হন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়ন ও নীতিগত ধারাবাহিকতাই আগামী দিনের অর্থনৈতিক সাফল্য নির্ধারণ করবে।




