ট্রাম্পের হরমুজ অবরোধের ঘোষণায় আবারও বেড়েছে তেলের দাম

হরমুজে অবস্থান নিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। ফাইল ছবি
আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে তেলের দাম। রবিবার হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে তেল সরবরাহ আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় এ দামবৃদ্ধি।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২ ডলার। আর মার্কিন ক্রুড তেলের দামও ৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১০৪ ডলারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন সময়ে তা ছাড়িয়ে যায় ১১৯ ডলার পর্যন্ত।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি করে তেহরান ও ওয়াশিংটন। একে স্থায়ী রূপ দিতে শুক্রবার ইসলামাবাদে বৈঠক করে দুই পক্ষ।
এ সময় তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি হয়েছে ৯৫ দশমিক ২০ ডলার। শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় আবারও বাড়তে শুরু করে তেলের দাম।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে তারা।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে আসা-যাওয়া করা সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেবে সেন্ট্রাল কমান্ড।
সেন্টকমের বিবৃতি, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরসহ দেশটির সব উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী সব দেশের জাহাজের ওপরই সমানভাবে কার্যকর করা হবে এ অবরোধ।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে, প্রণালির দিকে আসা যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে ‘কঠোর ও চূড়ান্ত’ ব্যবস্থা।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যকার আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবরোধ করবে বলে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ যুদ্ধ থেকে আর্থিকভাবে লাভ হয়েছে ইরানের। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে টোল হিসেবে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত আদায় করছে তেহরান।
বাজারের বিষয়ে তথ্যপ্রদানকারী সংস্থা কেপলারের দাবি, দেশটি মার্চ মাস পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ১৮.৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। যা গত তিন মাসের তুলনায় দৈনিক প্রায় ১ লাখ ব্যারেল বেশি।
ইরানের আর্থিক ব্যবস্থা ধ্বংস করতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। এতে বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা।

