নিটওয়্যারে পতন, প্রবৃদ্ধিতে টিকে আছে ওভেন খাত

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের মূল উৎস তৈরি পোশাক খাত
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে সামান্য পতন হয়েছে। এ সময়ে খাতটির রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১৯ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ০.৬৩ শতাংশ কম।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এ চিত্র। তবে সামগ্রিক রপ্তানি সামান্য কমলেও ওভেন পোশাক ধরে রেখেছে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। অন্যদিকে নিটওয়্যার খাতে সামান্য সংকোচন হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৬৮ শতাংশ বেশি। বিপরীতে নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে ১০ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা ১.৮০ শতাংশ কমেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার ওঠানামা, মূল্যচাপ এবং ক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতির মধ্যেও বাংলাদেশের পোশাক শিল্প স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে ওভেন খাতের প্রবৃদ্ধি এবং মোট রপ্তানিতে খুব সামান্য পতন শিল্পের অভিযোজন সক্ষমতারই প্রমাণ।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধের তথ্য পোশাক খাতের কিছুটা স্থিতিস্থাপকতার অথচ অস্থির পরিস্থিতির প্রতিফলন। তবে টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পণ্যের বৈচিত্র্য, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভোক্তা চাহিদা, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্রয়াদেশের প্রবণতার ওপর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গতি অনেকটাই নির্ভর করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পতন এড়িয়ে খাতটির স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রাখা ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন তারা।




