তদন্তের নির্দেশ
মুন্নু অ্যাগ্রোর নথিপত্রে ঘাটতি

তালিকাভুক্ত মুন্নু অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারির আর্থিক প্রতিবেদনে অসংগতির কারণে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মূলত ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের বিবরণীতে ক্রয়-সংক্রান্ত নথিপত্রের ঘাটতি, নগদ লেনদেন ও নিরীক্ষকের আপত্তির সঙ্গে তথ্যের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সম্প্রতি বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ডিএসইকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য, সহায়ক প্রমাণপত্র ও সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামীর সময়কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মুন্নু অ্যাগ্রোর ২০২৪ সালের ৩০ জুন নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে নিরীক্ষক গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোম্পানির বিভিন্ন ক্রয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র না পাওয়া। নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মালামাল চাহিদাপত্র, কার্যাদেশ, ক্রয়াদেশ, কোটেশন, পণ্য সরবরাহের চালান, পণ্য গ্রহণের রসিদ, অর্থ গ্রহণের রসিদ ও অর্থ পরিশোধের আবেদন— এসব নথি পাওয়া যায়নি। ফলে কোম্পানিটি যে ব্যয় দেখিয়েছে, সেগুলোর যৌক্তিকতা নিরীক্ষকের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একটি প্রতিষ্ঠানের ক্রয়প্রক্রিয়ায় এসব নথির মাধ্যমে পণ্য বা সেবা কেনার প্রয়োজনীয়তা, অনুমোদন, বিক্রেতা, মূল্য, সরবরাহ এবং অর্থ পরিশোধের ধারাবাহিকতা যাচাই করা হয়। ফলে সামনে এসেছে নথির ঘাটতি থাকায় সংশ্লিষ্ট লেনদেনের প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ের বিষয়টি।
অন্যদিকে কোম্পানির অর্থ প্রদান ও অর্থ সংগ্রহের অধিকাংশই নগদে হয়েছে বলে নিরীক্ষক উল্লেখ করেছেন। ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে বড় পরিমাণ লেনদেন নগদে হওয়ার কারণে এসব অর্থের উৎস, ব্যবহার ও লেনদেনের ধারাবাহিকতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
কোম্পানির দেওয়া ব্যাখ্যাও কমিশনের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। কোম্পানির জবাব নিরীক্ষকের উত্থাপিত পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যথাযথভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে শুধু হিসাবের অঙ্ক নয়, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পেছনের বাস্তব চিত্রও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ কারণে তদন্ত কার্যক্রমে ডিএসইকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিবিড়ভাবে যাচাই করতে বলেছে বিএসইসি। এর মধ্যে লেনদেনের সত্যতা, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত ব্যয়ের যৌক্তিকতা অন্যতম। এ ছাড়া নগদ লেনদেনের অর্থপ্রবাহ সঠিকভাবে অনুসরণযোগ্য কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক শর্ত ও বাজারমূল্যের বাইরে কোনো লেনদেন হয়েছে কি না, ডিএসই তা-ও তদন্ত করবে। একই সঙ্গে আর্থিক বিবরণীতে কোনো ভুল রয়েছে কি না এবং সার্বিক পরিস্থিতিতে নিরীক্ষকের নেওয়া রিপোর্টিং সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল কি না, তদন্তের আওতাভুক্ত থাকবে এসব বিষয়ও।
এর আগে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মুন্নু অ্যাগ্রোর আর্থিক বিবরণী নিয়ে ডিএসইর করপোরেট গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কমিটি বিএসইসিকে একটি পর্যবেক্ষণ পাঠায়। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই এবার ডিএসইকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।






