নজরে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির রোডম্যাপ
- আইএমএফ বিশ্বব্যাংক সভা

সংগৃহীত ছবি
সম্ভাব্য জলজট আর যাতায়াত অচলাবস্থার কালো মেঘ পুরোপুরি কেটে গেছে। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছাড়াই স্বস্তির আমেজে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আজ সোমবার পর্দা উঠছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার। সেপ্টেম্বর মাসের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে অতিবৃষ্টি ও প্লাবনের পূর্বাভাসে আয়োজক প্রশাসনের পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চ থেকে আসা প্রতিনিধিদের মনে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল কঠোর নির্দেশিকা জারি করেন। সে মতে, প্রস্তুত রাখা হয়েছিল সাঁজোয়া ট্রাক, ফোর-হুইল-ড্রাইভ যান, এমনকি বাসের বড় পরিকল্পনা। তবে শেষ পর্যন্ত চাও ফ্রায়া নদীর জলসীমা বাঁধের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান এবং আকাশ পরিষ্কার থাকায় কোনো আগাম মহড়া ছাড়াই জমকালো পরিবেশে শুরু হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতির এই মেগা ইভেন্ট।
বিশ্বের ১৯১টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং শীর্ষ আর্থিক নীতিনির্ধারকসহ ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থ সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলও এ বৈঠকে অংশ নিতে গতকাল রবিবার ব্যাংককে এসে পৌঁছেছে।
সূত্র মতে, ব্যাংকক সম্মেলনের সাইডলাইনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ৪৫০ কোটি ডলারের একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বাংলাদেশের। এটি চূড়ান্ত হলে আগামী ডিসেম্বরে এ ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হবে সংস্থাটির সঙ্গে। অবশ্য এখানে আলোচনার আগে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ ঋণ চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে আইএমএফের কাছে। আইএমএফের পক্ষ থেকে রাজস্ব ও ব্যাংক খাতের সংস্কার, করছাড় যৌক্তিক, ভর্তুকি কমানোর মতো কঠোর শর্তের ওপর জোর দিয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বৈঠকে একটি পর্ব আছে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকারও। বর্তমান জিডিপিকে প্রায় এক ট্রিলিয়নে উন্নীত করতে বার্ষিক প্রায় ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তা, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তার ঘটছে। যে কারণে ফিনটেক খাতের সুরক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফের যৌথ উদ্যোগে একটি কার্যকর ফ্রেমওয়ার্ক বা ‘ব্যাংকক ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জন্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা।
বৈশ্বিক শ্রমবাজার এবং ব্যাংক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক প্রভাব নিয়ে সম্মেলনে নীতিনির্ধারকরা বিশেষ সেশনের আয়োজন করেছেন। কীভাবে দায়িত্বশীল উপায়ে এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজস্ব আহরণ, মুদ্রাস্ফীতি পূর্বাভাস এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অর্থায়ন সহজ করা যায়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা আলোকপাত করবেন।



