রাজস্ব নিয়ে বিশ্বব্যাংকের শঙ্কা উদ্বিগ্ন নন অর্থমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বব্যাংক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কর ফাঁকি, দুর্বল প্রশাসন ও অতিরিক্ত করছাড়ের কারণে রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দাবি করছেন— এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণই নেই! বিশ্বব্যাংকের কড়া সতর্কবার্তা এবং অর্থমন্ত্রীর এমন আশ্বস্ত করার বিপরীত অবস্থানে দেশের অর্থনীতিতে এক ভিন্ন মেরুপ্রান্তের চিত্র ফুটে উঠেছে।
বিশ্বব্যাংক বলেছে, গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি ছিল। মোট রাজস্ব জিডিপির ৮ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে কর-রাজস্ব প্রায় ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে চাপের মধ্যে রয়েছে এনবিআর। প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৯ হাজার কোটি টাকার বেশি কম আদায় করেছে সংস্থাটি।
একই দিন অর্থমন্ত্রী কর আদায়ে গতি বাড়াতে এনবিআর ভবনে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, চলতি অর্থবছরের শুরুতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে সময়ের সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়বে এবং অর্থবছর শেষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। রাজস্ব কর্মকর্তারা ভালোভাবে কাজ করছেন।
অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কর আদায়ে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। করদাতাদের আস্থা তৈরির জন্য কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে করদাতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর ব্যবস্থায় হয়রানি বন্ধে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বললেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একই দিনে বিদেশ থেকে সুতা আমদানির জটিলতা নিরসনে পোশাক ও বস্ত্র খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আগামীর সময়কে বলেছেন, বিদেশ থেকে সুতা আমদানিতে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আবার বৈঠক করতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগপর্যন্ত বিভিন্ন বন্দরে আটকে থাকা সুতা যাতে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে খালাস করা যায়, সে বিষয়ে এনবিআরের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বৈঠকে ডি-বন্ডিং বা বন্ড সুবিধার বাইরে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে পণ্য আমদানির বিষয়টি তুলে ধরলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।
তিনি বলেছেন, ‘বৈঠকে মূলত ডি-বন্ডিং নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আমরা ডি-বন্ডিং চাই। ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে পণ্য আসবে এবং জবাবদিহির একটি কাঠামো তৈরি হবে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়— এটিই আমাদের প্রশ্ন।’
তিনি আরও বলেছেন, বন্ড সুবিধার বাইরে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলে সেখানে শুল্ক নিয়ে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। তবে আমদানিকারককে অবশ্যই রপ্তানির মাধ্যমে দায় পরিশোধ করতে হবে।
বিটিএমএ সভাপতি বলেছেন, রপ্তানি না হলে প্রসিড রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) পাওয়া যাবে না। অর্থ দেশে না এলে কর পরিশোধের বিষয়ও সামনে আসবে। অতীতে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ রপ্তানি করলেও অর্থ দেশে আনেনি। এ ধরনের অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে বন্ডের বাইরে পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে কর বা পণ্যের দামের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই; বরং এ ধরনের ডি-বন্ডিংয়ের সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশে নতুন শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিটিএমএ সভাপতি আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তানে ডাইস ও কেমিক্যালের বেশ কয়েকটি কারখানা থাকলেও বাংলাদেশে এ ধরনের শিল্প এখনো গড়ে ওঠেনি। ডি-বন্ডিংয়ের মাধ্যমে আমদানির সুযোগ তৈরি করা গেলে বাংলাদেশেও এ ধরনের কারখানা স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।



