এক বছরে দরিদ্র হয়েছেন ২১ লাখ

প্রতীকী ছবি
ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমছে। এতে শুধু এক বছরে (২০২৫ সাল) নতুন করে গরিব হয়েছেন ২১ লাখ মানুষ। সবমিলে দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীর সংখ্যা এখন প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ। গতকাল মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটি বলছে, জ্বালানি খাতের সংকট, ভঙুর ব্যাংক খাত ও রাজস্ব আয়ের মন্থরগতিতে থমকে গেছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এতে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নামতে পারে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের দৌরাত্ম্য ও মূলধন ঘাটতি চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে ব্যাংক খাতকে, সেটিও তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, জাতীয় দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, দারিদ্র্যের হার টানা চতুর্থ বছরের মতো বেড়েছে। ২০২২ সালে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে। ফলে শুধু ২০২৫ সালে নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন ২১ লাখ মানুষ।
একই সময়ে আয়বৈষম্যও বেড়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক সংঘাত না হলে ২০২৬ সালে দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার কথা ছিল ১৭ লাখ মানুষের। কিন্তু এখন বের হতে পারবেন মাত্র ৫ লাখের মতো মানুষ। ফলে ১২ লাখ মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হবে না।
বহুজাতিক উন্নয়ন-সহযোগী বিশ্বব্যাংক বলেছে, অর্থনীতিতে গতি এনে মন্দা পরিস্থিতি এড়াতে তিন খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কারের বিকল্প নেই। এগুলো হলো ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাত।
বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেছেন, প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের জরুরি আর্থিক, জ্বালানি ও রাজস্ব সংস্কার প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ব্যাংক খাতে বাড়ছে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে কমছে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা। এদিকে সামাজিক সুরক্ষা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার-সহায়তায় সরকার বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশ দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অনেক সচ্ছল পরিবার সুবিধা পেলেও দরিদ্রতম বহু পরিবার সামাজিক সুরক্ষার বাইরে থেকে যায়।
তিনি আরও বলেছেন, বিনিয়োগ কার্যক্রম মন্থর হয়েছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি উচ্চপর্যায়ে রয়েছে, যা পারিবারিক ক্রয়ক্ষমতা কমিয়েছে এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়িয়েছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে প্রভাবিত করে চলেছে। অন্যদিকে সীমিত রাজস্ব সংস্থান সরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করেছে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সহায়তায় বাহ্যিক খাত স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ক্রমেই সহজ হওয়া এবং সরকারি সংস্কার কর্মসূচির গতি ত্বরান্বিত হলে ২০২৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।



