বাংলাদেশে ঋণের চেয়ে অনুদান বেশি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে দিয়েছে ৪১৬ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৪১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। ইউএসএআইডির মাধ্যমে এ সহায়তা দিয়েছে দেশটি। দেশে যত উন্নয়ন-সহযোগী কাজ করছে, সেগুলোর মধ্যে অনুদানে শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ উন্নয়ন-সহযোগীর সব ধরনের অনুদান বন্ধ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আজম আগামীর সময়কে বললেন, ইউএসএআইডি সরাসরি সরকারকে অনুদান দিত না। তারা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছে। তবে তাদের অনুদান বন্ধ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সেবাধর্মী কার্যক্রমও ঝুঁকিতে পড়েছে। যেমন ইউএসএআইডির একটি বড় সহায়তার ক্ষেত্র ছিল আইসিডিডিআরবিতে। এখানে তাদের অনুদান বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ আগে যে চিকিৎসা সুবিধা পেতেন, তা সীমিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা, রেড ক্রসের সহায়তাসহ সংস্থাটির অনুদানে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অনুদানের ক্ষেত্র ছিল সুশাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ উন্নয়ন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং জনগণের সহনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যক্রম। ইউএসএআইডি যে পরিমাণ অনুদান দিয়েছে, এর মধ্যে খাদ্যসহায়তা ছিল ১৩১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, পণ্য ৪৬ কোটি ৯১ লাখ ডলার আর বাকি অর্থ প্রকল্প সহায়তা হিসেবে পাওয়া গেছে। তবে ১৯৯৯-২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশকে ঋণ দিয়েছিল আমেরিকা। এর পরিমাণ ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
এদিকে দেশের উন্নয়নে ১৯৭১-৭২ থেকে ২০২৪-২৫ সালের অর্থবছর পর্যন্ত ইউএসএআইডি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৫৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর মধ্যে খাদ্যসহায়তা ১৩১ কোটি ৯৬ লাখ, পণ্যসহায়তা ৪৪ কোটি ৫১ লাখ ডলার এবং বাকি অর্থ প্রকল্প সহায়তা হিসেবে পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত করে। এতে বাংলাদেশের অনেক চলমান প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারিয়েছেন অনেক কর্মী।




