রিজার্ভ চুরির খসড়া চার্জশিটে ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে খসড়া চার্জশিট পাঠানো হয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে। আইনি মতামত পাওয়ার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং এরপর বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কথা বলছিলেন ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তারা দেশি বা বিদেশি— যেই হোক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান তাদের বিপক্ষেই থাকবে।
সাবেক কর্মকর্তা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি হলেও সবার ক্ষেত্রে একই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হবে’— যোগ করেন মুখপাত্র।
জানা গেছে, চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে। ১০ হাজার পৃষ্ঠার মামলার ডকেটে উঠে এসেছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণ।
আরিফ হোসেন বলছিলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম এসেছে। তবে চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে কী থাকে এবং বিচারশেষে আদালতের রায়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ মামলার নিষ্পত্তি হলে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্বস্তির জায়গায় পৌঁছাবে, কারণ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তির জন্য বড় ধরনের আঘাত ছিল ঘটনাটি। মুখপাত্রের কথায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ ও তদারকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম দায়িত্ব। সেজন্য বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। কিন্তু এত নিরাপত্তাবলয় ভেদ করে চুরি হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ। যেখানে দেশি-বিদেশি নানা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা। পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে রাষ্ট্রের। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা হিসেবে তিনিও এ ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে জানান। ‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের গৌরবময় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি যাতে গাফিলতি কিংবা ইচ্ছাকৃত রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার সাহস না পায়, সেজন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন।’
তার মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক ও সুনামের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই দ্রুত, সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত বিচারসম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রায় এক দশক তদন্তের পর অবশেষে গতি পেল দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলা। খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।




