পোশাকের চাহিদা বাড়ছে অপ্রচলিত বাজারে

প্রচলিত বড় বাজারের বাইরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে গতি বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ, যেখানে দেশের সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এ সময়ে অপ্রচলিত বাজার থেকে আয় এসেছে ১৮১ কোটি ডলার, যা মোট পোশাক রপ্তানির ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। প্রধান বাজারগুলোর পাশাপাশি বিকল্প বাজারে এ বাড়তি প্রবৃদ্ধি দেশের পোশাক রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, বাংলাদেশের অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান গন্তব্য জাপান। আলোচ্য তিন মাসে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। তুরস্কের বাজারে রপ্তানি আয় ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। ব্রাজিলে রপ্তানি বেড়ে ৬ কোটি ৩০ লাখ ৯০ হাজার ডলার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া মেক্সিকোতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৮ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পোশাক, বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। মালয়েশিয়ায় ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে রপ্তানি হয়েছে ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের পোশাক।
অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি আয় হয়েছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি। চীনে রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ডলারের পোশাক। সৌদি আরবে রপ্তানি ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
অন্যদিকে ভারতে পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ায় রপ্তানি কমেছে ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ; আয় হয়েছে ৩ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। নিউজিল্যান্ডে রপ্তানি ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ২ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার ডলার হয়েছে। চিলিতে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল আগামীর সময়কে বললেন, অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের অনেক সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এতদিন এসব বাজারে সেভাবে নজর দেওয়া হয়নি। এখন এসব বাজার গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সময় এসেছে।
তিনি আরও বললেন, অপ্রচলিত বাজার মানেই শুধু দামি পোশাকের বাজার নয়। এসব দেশে বিভিন্ন ধরনের পোশাকের বড় চাহিদা রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের পোশাকের বাজার রয়েছে। তাই প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আরও বাড়াতে অপ্রচলিত বাজারের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।



