খান ব্রাদার্সের শেয়ার কারসাজি
- তিন বিনিয়োগকারীকে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা জরিমানা
- বিভ্রান্ত করতে বেশি দামে শেয়ার ক্রয়
- একাধিক বিও হিসাব ব্যবহার

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে তিন বিনিয়োগকারীকে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক বিও হিসাব ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা, আগ্রাসীভাবে উচ্চমূল্যে শেয়ার কেনা ও বাজারে কৃত্রিম সক্রিয়তা তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন মো. আজাদ হোসেন পাটোয়ারী, মো. নাসির উদ্দিন আকন ও মো. আক্তার হোসেন।
বিএসইসির সংশ্লিষ্ট আদেশ অনুযায়ী, নাসির উদ্দিন আকনকে ১ কোটি, আজাদ হোসেন পাটোয়ারীকে ২ কোটি ও আক্তার হোসেনকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, একাধিক বিও হিসাব ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে শেয়ার হাতবদল এবং আগের বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার কেনার মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেন ও দরকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে মনে করছে কমিশন।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাসির উদ্দিন আকন বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে নিজের নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯টি বিও হিসাব পরিচালনা করতেন। ২০২৫ সালের ৫ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজের বিভিন্ন বিও হিসাবের মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৫৯টি শেয়ার লেনদেন করেন তিনি। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত আগের বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে শেয়ার কেনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিএসইসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত খান ব্রাদার্সের শেয়ার লেনদেন করে নাসির উদ্দিন আকন ৪ কোটি ২২ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৩ টাকা বাস্তবায়িত মুনাফা করেন। ওই বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত তার হাতে থাকা অবিক্রীত শেয়ারে অবাস্তবায়িত মুনাফা ছিল প্রায় ১৫ কোটি ৭২ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, আজাদ হোসেন পাটোয়ারীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সাতটি বিও হিসাবের তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি নিজের বিভিন্ন বিও হিসাবের মধ্যে আটটি লেনদেনে ৫ হাজার ৮৫২টি শেয়ার কেনাবেচা করেন। এসব লেনদেনের মূল্য ছিল ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯৩৬ টাকা। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত শেয়ার লেনদেন করে তিনি ৮ কোটি ২১ লাখ ৩ হাজার ৩১৩ টাকা বাস্তবায়িত মুনাফা করেন। একই বছরের ২৪ মার্চ পর্যন্ত তার পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ারে অবাস্তবায়িত মুনাফা ছিল ১৩ কোটি ৬৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৬৬ টাকা।
তৃতীয় বিনিয়োগকারী আক্তার হোসেনের নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজে ছয়টি বিও হিসাব ছিল। তদন্তে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি নিজের বিভিন্ন বিও হিসাবের মধ্যে ৫৪ হাজার ২৭১টি শেয়ার লেনদেন করেন। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল ৯১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪১ টাকা। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত আগের বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে শেয়ার কেনা এবং ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কৃত্রিম সক্রিয়তা তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শুনানিতে তিন বিনিয়োগকারীর পক্ষ থেকেই নিজেদের সাধারণ বিনিয়োগকারী হিসেবে দাবি করা হয়। আক্তার হোসেনের পক্ষ থেকে লোকসানের কথা তুলে ধরে দাবি করা হয়, তিনি কোনো সিন্ডিকেট বা কারসাজির সঙ্গে জড়িত নন। তবে তাদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি কমিশন।
বিএসইসি জানিয়েছে, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(২), ১৭(ই)(৩) ও ১৭(ই)(৫) ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। আইনের ২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তিন বিনিয়োগকারীকে জরিমানা করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা।



