অতিরিক্ত শেয়ার ব্লকের নির্দেশ
- সিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী লিংকওয়ে লিমিটেড
- কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর প্রস্তুতি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যেই এক্সচেঞ্জটির কৌশলগত বিনিয়োগকারী এবিজি লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি শেয়ার থাকায় এবিজির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ে লিমিটেডের ১৭ লাখ ১৪ হাজার ৯৩২টি শেয়ার ব্লক রাখার জন্য সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সম্প্রতি কমিশন এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে বলে জানা গেছে স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে।
আদেশে বলা হয়েছে, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী কোনো কৌশলগত বিনিয়োগকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারে। একই বিধানে, বিনিয়োগকারীর সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ওই কোম্পানির শেয়ার ধারণ করতে পারবে না; কিন্তু সিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী এবিজির একাই ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। পাশাপাশি তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ের অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ফলে সম্মিলিত শেয়ার ধারণ ২৫ দশমিক ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি।
সিডিবিএলকে অবিলম্বে অতিরিক্ত ১৭ লাখ ১৪ হাজার ৯৩২টি শেয়ার আটকে রাখার ব্যবস্থা নিতে বলেছে কমিশন। কমিশনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর, বন্ধক বা অন্য কোনোভাবে স্থানান্তর করা যাবে না। তবে আটকে রাখা শেয়ারের বিপরীতে ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডাররা সরাসরি পাবেন। নগদ লভ্যাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে এ নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। অন্যদিকে এসব শেয়ারের বিপরীতে বোনাস বা রাইট শেয়ার ইস্যু হলে তা সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের নামে ইস্যু করতে হবে। তবে সেগুলো সরাসরি তাদের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। বিদ্যমান আটকে রাখা শেয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শেয়ারও আটকে থাকবে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ে লিমিটেডের আটকে রাখা শেয়ার কমিশনের অনুমোদন নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এবিজি লিমিটেডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়— এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আদেশ বাস্তবায়নের পর সিএসই ও সিডিবিএলকে লিখিতভাবে তা কমিশনকে জানাতে হবে। আদেশটি কার্যকর হবে তাৎক্ষণিকভাবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩-এর ধারা ২৪ এবং ডিপোজিটরি আইন, ১৯৯৯-এর ধারা ১৪(১)-এর ক্ষমতাবলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনের ধারা ১২ ও ১৩ এবং কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিধিমালা, ২০২৩-এর বিধি ৪(১)(গ) ও ৪(১)(ছ)-এর বিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করতে দেওয়া হয়েছে আদেশটি।
দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর আলোচনা শুরু হয় ২০০৭ সালে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালে সিএসই চূড়ান্ত নিবন্ধন পায়। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের লেনদেন নিষ্পত্তি, আদেশ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তি প্রস্তুত করেছে সিএসই। গত দুই বছরে প্রায় ২০০ জন ট্রেডারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ১৫টি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করা হয়েছে। ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে এরই মধ্যে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বাজার চালুর প্রাথমিক ধাপে সাতটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকারের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, বি-রিচ, সোহেল সিকিউরিটিজ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, রয়েল ক্যাপিটাল, ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ ও ন্যাশনাল লাইফ সিকিউরিটিজ।



