জড়িত বাজার কারসাজিতে
- এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের কার্যক্রম তদন্তে বিএসইসি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিনিয়োগ বিধিমালা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বে-মেয়াদি এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের তিন বছরের কার্যক্রম এবার তদন্তের আওতায় এসেছে। বিশেষ করে ফান্ডটির বিরুদ্ধে অকার্যকর ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগ, সম্ভাব্য বাজার কারসাজি, অস্বাভাবিক ও চক্রাকার লেনদেন এবং স্ব-লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দালালি কমিশনে অনিয়ম, ফান্ডের অর্থ থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অবৈধ অর্থ প্রদান এবং পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ফান্ডটির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড পরিচালিত এ ফান্ডটির সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন থেকে এই তদন্তের আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন— বিএসইসির যুগ্ম পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক মো. শাকিল আহমেদ এবং মো. হাসান।
বিএসইসি মনে করে, শেয়ারবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করা প্রয়োজন। এ কারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯-এর সেকশন ২১, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন ১৯৯৩-এর ধারা ১৭(ক) এবং সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৫ বিধির প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য তিনজন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে কমিশন।
বিএসইসির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩১ আগস্ট ২০২৩ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের কার্যক্রম এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান পরিপালনের মাত্রা যাচাই করাই বিশেষ তদন্তের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য তদন্ত কমিটির জন্য সাতটি নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
ফান্ডটির যাবতীয় বিনিয়োগ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫-এর ষষ্ঠ তফসিল যথাযথভাবে অনুসরণ করে করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। সেই সঙ্গে ফান্ডের পোর্টফোলিওতে কোনো অকার্যকর সম্পদ (এনপিএ), ক্ষতিগ্রস্ত বা মান কমে যাওয়া বিনিয়োগ এবং মোট বকেয়া দাবির কোনো স্থিতি রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা হবে গভীরভাবে।
ফান্ডের সব লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ বাজার কারসাজি, অস্বাভাবিক লেনদেন, চক্রাকার লেনদেন, নিজেদের মধ্যে লেনদেনসহ কোনো অনিয়মে জড়িত ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে শেয়ার লেনদেনে দেওয়া দালালি কমিশন কতটা যৌক্তিক ছিল এবং তা প্রচলিত আইন ও নীতিমালা মেনে দেওয়া হয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া ফান্ডের নগদ অর্থ ও ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হবে। ফান্ডের অর্থ থেকে সম্পদ ব্যবস্থাপক বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষকে অনিয়ম বা অবৈধভাবে অর্থ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করবে তদন্ত কমিটি।
তদন্তে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির নিজস্ব শেয়ার পোর্টফোলিওর কার্যক্রমের সঙ্গে এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ডের পোর্টফোলিওর কার্যসম্পাদনের তুলনা করা হবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় কোনো অস্বাভাবিকতা বা অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ডের সুশাসন ও তদারকিতে বহিস্থ নিরীক্ষক, সম্পদ ব্যবস্থাপক, ট্রাস্টি ও জিম্মাদার যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির ফান্ড পরিচালনার সক্ষমতা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে। তদন্ত চলাকালে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অনিয়ম বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এলে সেটিও নেওয়া হবে অনুসন্ধানের আওতায়।



