মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়ায় দাম বাড়ছে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের

সংগৃহীত ছবি
দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারদরে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর টানা বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি চিঠি পাঠায়। এর জবাবে কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বর্তমানে তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই যা শেয়ারের দাম বা লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমান দরবৃদ্ধি সম্পূর্ণ বাজার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে বলে প্রতীয়মান।
বাজার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪৩ টাকার আশেপাশে অবস্থান করছিল। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে ৬০ টাকার ঘর স্পর্শ করে। মার্চের শুরুতেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত ৫২ সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ৩৯.১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬১.৪০ টাকা। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারটি তার সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৯.৯১ কোটি টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৯৯ লাখ ১২ হাজার ৩৫৭টি।
আর্থিক পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫) শেষে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১৭ পয়সা যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৬ পয়সা। এছাড়া ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩.৯৭ টাকা। কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২৫ সমাপ্ত বছরের জন্য ডিভিডেন্ট প্রদান করেনি।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ২০০৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার এবং বিভিন্ন আইটি যন্ত্রাংশ সংযোজন ও বিপণনের পাশাপাশি সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রদানের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৪১.৩৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৪.৬২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৩.৯২ শতাংশ শেয়ার।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু কোম্পানি কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের কথা নিশ্চিত করেনি, তাই এই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো ধরনের কারসাজি বা গুজবের প্রভাব আছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এই ধরনের পরিস্থিতিতে হুজুগে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির মৌলভিত্তি যাচাই করে সতর্কতার সঙ্গে লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।




