বিএসইসির নজরদারিতে ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে চামড়া খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটির কারখানা, প্রধান কার্যালয়, হিসাব বিবরণী, রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এ লক্ষ্যে বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গঠিত তদন্ত কমিটিকে এসংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছে কমিশন।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে এসংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।
তদন্তের বিষয়টি ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, সহকারী পরিচালক মো. শাকিল আহমেদ এবং সহকারী পরিচালক বিনয় দাস।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যারের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকের উল্লিখিত ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ (এমফাসিস অব ম্যাটার) মতামত, কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) তহবিলের সঠিক ব্যবহার, লেনদেন ও অর্থপ্রবাহের স্বচ্ছতা যাচাই করে দেখবে গঠিত তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি কোম্পানিটির ব্যাংকের লেনদেন, অব্যবহৃত অর্থ এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা থাকলে সেটা চিহ্নিত করা হবে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিএসইসির তদন্তের আদেশ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে, পুঁজিবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেডের কারখানা, প্রধান কার্যালয়, হিসাব বই, রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পরিদর্শন প্রয়োজন। তাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস ২০২০-এর রুল ১৭-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বিএসইসি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হলো।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। একইসঙ্গে তদন্তসংক্রান্ত প্রতিবেদনের দুটি হার্ড কপি এবং একটি সফট কপি কমিশনে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।
যেসব বিষয় খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি
ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যারের ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকের দেওয়া ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ মতামত যাচাই করে দেখবে গঠিত তদন্ত কমিটি। একইসঙ্গে কোম্পানিটির কিউআইও’র মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থ প্রস্পেক্টাসে উল্লিখিত খাতে ব্যয় হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হবে।
এছাড়া কিউআইও থেকে প্রাপ্ত অর্থের লেনদেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ, নগদ প্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) এবং আর্থিক প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কিনা, তা তদন্তের আওতায় থাকবে। ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, অব্যবহৃত অর্থ এবং কমিশনের অনুমোদিত নির্দেশনা থেকে কোনো বিচ্যুতি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে গঠিত তদন্ত কমিটি।
পাশাপাশি ক্ষুদ্র খরচ ছাড়া অন্য সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন এবং দায়ী ব্যক্তিদের (পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিএফও, কোম্পানি সেক্রেটারি, নিরীক্ষক প্রমুখ) চিহ্নিত করাসহ অন্য যেকোনো প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করবে গঠিত তদন্ত কমিটি।
সর্বশেষ আর্থিক অবস্থা
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার অ্যান্ড এক্সেসরিজের পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.৫৫ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ২.১৮ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৫.৫৭ টাকা।
শেয়ার ধারণ পরিস্থিতি
ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যার অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০২৪ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৮০ লাখ। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৪৫.২২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২২.৭৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৩৫.৯০ টাকায়।

