টানা পতনের ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস টানা দরপতনের পর চতুর্থ কার্যদিবস বুধবারে (৭ অক্টোবর) দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিনশেষে সব খাত মিলিয়ে ডিএসইতে ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের দর।
১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো মানের ১০৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৬৫টির এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের ৪২টি কোম্পানির দর বেড়েছে, ২৩টির কমেছে এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪০টির দর বাড়লেও ৪৬টির কমেছে এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে মাত্র ১টির দাম বেড়েছে, ১৭টির কমেছে এবং ১৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
অধিকাংশ কোম্পানির দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। এদিন বাজারে ৬০৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের ৫৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেয়ে ৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বেশি। এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ইভিন্স টেক্সটাইলের, যার ৩৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ৩০ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মিডল্যান্ড ব্যাংকের ২০ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
শীর্ষ ১০-এ থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সায়হাম টেক্সটাইল, ওরিয়ন ইনফিউশন, সোনালি আঁশ, মতিন স্পিনিং, অ্যাপেক্স ফুডস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স এবং মালেক স্পিনিং।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৩টির দর বেড়েছে, ৮৫টির কমেছে এবং ১৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৯৮ পয়েন্ট বাড়লেও মোট লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।



