মুনাফায় টান ব্যাংক এশিয়া ও ট্রাস্টের, লোকসানে প্রিমিয়ার ব্যাংক

দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন ব্যাংকের চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন ২০২৬) আর্থিক ফলাফলে নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য ছয় মাসে ব্যাংক এশিয়া ও ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমেছে। অন্যদিকে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির লোকসান আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ৭৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ টাকা ১১ পয়সা। অর্থাৎ ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৩৪ পয়সা বা ১৬ শতাংশ কমেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৮৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯১ পয়সা। ফলে এ সময়ে মুনাফা ৫ শতাংশ কমেছে। ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৬ টাকা ৯২ পয়সা।
ব্যাংক এশিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুদ আয়ের তুলনায় সুদ ব্যয় বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া বিনিয়োগ, কমিশন, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও ব্রোকারেজ আয় কমে যাওয়ায় ইপিএস কমেছে।
অন্যদিকে ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩৬ পয়সা। এতে ব্যাংকটির ইপিএস ১৬ পয়সা বা ১২ শতাংশ কমেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ট্রাস্ট ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৯৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৭ পয়সা। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা ১৩ শতাংশ কমেছে। ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৪ পয়সা।
এদিকে, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির আর্থিক ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে। ব্যাংকটির চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ১৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১১ পয়সা। ফলে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ২ টাকা ৪ পয়সা বা ১৮৪ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ২৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩৩ পয়সা। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান ৯৫ পয়সা বা ৭১ শতাংশ বেড়েছে। ৩০ জুন শেষে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৪৪ পয়সা।
প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুদভিত্তিক আয় কমে যাওয়ায় প্রথমার্ধে তাদের এ লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, তারল্য সংকট এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান চাপের কারণেই ব্যাংকগুলোর মুনাফায় এমন পতন দেখা যাচ্ছে। আমানতের সুদহার বাড়লেও সে অনুপাতে ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর আয়ের খাত সংকুচিত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।




