কারণ ছাড়াই জিলবাংলা সুগারের শেয়ার দর বাড়ছে

সংগৃহীত ছবি
দেশের শেয়ারবাজারে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের শেয়ারের দাম সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কোনো ধরনের মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) ছাড়াই টানা দরবৃদ্ধি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
তবে শেয়ার দরের এই অস্বাভাবিক উত্থানের পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই, যা শেয়ারের দামে এ ধরনের পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।
শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত ২ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি চিঠি পাঠায়। এর জবাবে কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বর্তমানে তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই, যা শেয়ারের দাম বা লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থানে এমন কোনো নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেনি, যা এই দরবৃদ্ধিকে যৌক্তিক করতে পারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বলছে, কোম্পানিটির শেয়ারের দাম গত এক মাসে দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ১৮ জুন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ১২২ দশমিক ১০ টাকায়। আর গত ২ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৬০ দশমিক ৫০ টাকায়। ফলে গত ৯ কার্যদিবসে কোম্পানি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৪০ টাকা বা ৩১ দশমিক ৪৪ শতাংশের বেশি।
মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কোনো কোনো সেশনে দৈনিক লেনদেন অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত ছোট মূলধনী কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এমন লেনদেনের তীব্রতা প্রায়ই কৃত্রিম চাহিদাকে ইঙ্গিত করে।
জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৮ সালে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৬০ লাখ। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সরকারের হাতে ৫১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৬ দশমকি ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




