শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছতায় জোর

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা, পেশাগত সততা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঠিক বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন রেগুলেটরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক) তানভীর শাহরিয়ার গনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিল্ডিং ইনভেস্টর কনফিডেন্স: দ্য রোল অব প্রফেশনাল বডিস ইন অডিট রিপোর্টিং, গভর্নেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক এক যৌথ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি), ইন্সটিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি), ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি), ইনস্টিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ (আইআইএবি) এবং এসিসিএ বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেমিনারে তানভীর শাহরিয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির সহায়তায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি থেকে ৫০০ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু ৫০০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে হলে কেবল ব্যাংক বা প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগীদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এর জন্য দরকার ২৫, ৫০ কিংবা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের মূলধন, যা শেয়ারবাজার থেকেই নিশ্চিত করতে হবে।’ এ জন্য দেশব্যাপী ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা আর্থিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এ বিশেষ সহকারী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আইসিএবি, আইসিএমএবি, এসিসিএ ও আইএসএসবির মতো আন্তর্জাতিকমানের পেশাদার সব প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো রয়েছে। তবে কেবল বৈশ্বিক মানদণ্ড গ্রহণ করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ। একই খাতের কোম্পানিগুলোর মূল্যায়ন যেন একই মানদণ্ডে হয় এবং আর্থিক প্রতিবেদনে সত্যের গ্রহণযোগ্য সীমার শতভাগ প্রতিফলন থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তানভীর শাহরিয়ার জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সবসময় বাংলাদেশে সরাসরি উপস্থিত হয়ে বিনিয়োগ করেন না। তারা ফাইলিংস, আর্থিক বিবরণী, অডিট রিপোর্ট এবং বিভিন্ন অনুপাত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেন। যদি অডিট রিপোর্টে কোনো ভুল বা অসচ্ছতা থাকে, তবে বিনিয়োগকারী অর্থ হারান, যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ পুরো দেশের ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক আঘাত হানে।
পেশাগত সততাকে ‘স্ব-নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খলা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কাউকে আইন, বকা বা জরিমানা করে সৎ বানানো যায় না। অডিটিং ও গভর্নেন্সের দায়িত্ব আমাদের নিজেদের কাঁধেই নিতে হবে এবং নিজেদের অডিটর হিসেবে আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে।’
বিএসইসির কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়াতে ডিজিটাইজেশন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা তুলে ধরে বিশেষ সহকারী জানান, বিএসইসির ভেতরের সিস্টেম আপগ্রেড করার কাজ চলছে। এছাড়া তথ্যের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলোমেলোভাবে অডিট না করে নির্দিষ্ট বা ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার করা হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন রেগুলেটর সংস্থার পৃথকভাবে কাজ করার সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বিএসইসি ও আইসিএবির মতো সংস্থাগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন। ৫০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উদীয়মান অর্থনীতিতে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। মুদ্রানীতি, কর ব্যবস্থা বা বীমা খাতের যেকোনো সিদ্ধান্ত পুরো পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে।



