মাসুদ খান
শেয়ারবাজারে জোর করে নয়, স্বেচ্ছায় আসা উচিত

শনিবার গুলশানে রেনেসাঁ হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন মাসুদ খান
জোর করে নয়, শেয়ারবাজারে স্বেচ্ছায় তালিকাভুক্ত হয়ে এর সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তিনি বলেছেন, ‘দেশের বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে আসা উচিত। এ লক্ষ্যে দেশীয়, বিদেশি ও বহুজাতিক কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে ইতোমধ্যে সরাসরি আলোচনা করেছে বিএসইসি।’
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে রেনেসাঁ হোটেলে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস আয়োজিত ‘আইডিএলসি ক্যাপিটাল মার্কেট কনক্লেভ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
সেমিনারে মাসুদ খান বলছিলেন, ‘বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে দেশের শেয়ারবাজারে ভালো ও শক্তিশালী কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়লে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং বাজারের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারের আকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বা তারও কম। ২০৩০ সালের মধ্যে এই অনুপাত ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ‘দেশের অনেক সঞ্চয়কারীর শেয়ারবাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও আস্থা না থাকায় তারা মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর নির্ভর করতে চান। কিন্তু বাংলাদেশে মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনায় ভালো চর্চা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে, ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের সুদহারও এক অঙ্কে নেমে এসেছে। ফলে সাধারণ সঞ্চয়কারীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম জামাল উদ্দিন জানালেন, অর্থনীতির অগ্রগতির সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের চাহিদা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি করপোরেট অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে কার্যকর শেয়ারবাজার গড়ে তোলা জরুরি। এতে ব্যাংক খাতের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থায়নের চাপ কমানো সম্ভব হবে।
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানালেন, বন্ড, শেয়ার ও ব্যাংকঋণসহ বিভিন্ন উৎসের মধ্যে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর অর্থায়নে প্রায় ৭৫ শতাংশই ব্যাংকঋণনির্ভর। ভারতে এই হার ৫৩ শতাংশ। আর উন্নত বাজারগুলোতে তা ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে। ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থায়নের বিভিন্ন উৎসের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ, বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমানসহ আর্থিক খাত, ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে করপোরেট অর্থায়নের বৈচিত্র্য, সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে শেয়ারবাজারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।




