গরমিল অ্যাকাউন্টসের ছায়ায় বিডি অটোর শেয়ার কারসাজি

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে যে কয়েকটি ভালো বা মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি আছে, তার একটি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এ কোম্পানিটির শেয়ারদর রয়েছে ২১৩ টাকার নিচে। তবে কোন রকমে ব্যবসায় টিকে থাকা বিডি অটোকারসের শেয়ারদর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসকে ছাড়িয়ে গেছে। যা সম্ভব হয়েছে কোম্পানিটি স্বল্পমূলধনী হওয়ায়। শেয়ারের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে সহজেই কৃত্রিম সংকট তৈরী করছে এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী।
অনেক বছর ধরেই ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিডি অটোকারসের ব্যবসা ভালো না। এরমধ্যে সিএনজি কনভারশন ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়েছে লোকসানের কারণে। তারপরেও কোম্পানিটির যে সামান্য মুনাফা হয়, সেটাও নিম্নমূখী। এছাড়া নিরীক্ষায় আর্থিক হিসাবে অসঙ্গতি উঠে এসেছে বার বার। এ অবস্থায়ও কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন আগামীর সময়কে বলেন, শেয়ারবাজারে অনেক ভালো ভালো শেয়ার রয়েছে বিনিয়োগ করার জন্য। তবে একটি শ্রেণী অসৎ উপায়ে মুনাফা করার জন্য কয়েকটি স্বল্পমূলধনী কোম্পানির শেয়ারদর কৃত্রিমভাবে বাড়াচ্ছে। যা দেখে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ লোভে পড়ে বিনিয়োগে ঢুকছে। এতে করে তাদের লোকসানের সম্ভাবনা খুবই বেশি। এসব শেয়ারে বিনিয়োগ মানেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লোকসান করা। তাই বিনিয়োগের আগে সবার সাবধান হওয়া দরকার।
দেখা গেছে, গত ৮ মার্চ বিডি অটোকারসের শেয়ার দর ছিল ১২৬.১০ টাকায়, যা ২১ এপ্রিল লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ২৫২ টাকায়। অর্থাৎ দেড় মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ১২৫.৯০ টাকা বা ১০০ শতাংশ।
এই দর বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কোন কারণ খুঁজে পায়নি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। তারা এ নিয়ে দুই দফায় (৩১ মার্চ এবং ১২ এপ্রিল) বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে নিজেদের ওয়েবসাইটে সচেতনতামূলক তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রশ্নবিদ্ধ আর্থিক হিসাব
কোম্পানিটির ব্যবসায় দূর্বলতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, আর্থিক হিসাবেও আছে সমস্যা। এ নিয়ে নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে অগ্রিম ভ্যাট বাবদ ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং মূলধনী ব্যয়ের বিপরীতে অগ্রিম বাবদ ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা অযৌক্তিকভাবে দেখিয়ে আসছে। যা লোকসান হিসাবে অ্যাকাউন্টস থেকে বাদ (রাইট-অফ) দেওয়া উচিত। এছাড়া কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি করা অগ্রিম ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিপরীতে প্রত্যক্ষ কোন তৃতীয় পক্ষের নিশ্চয়তা পাননি।
এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ি ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে অবন্টিত লভ্যাংশ হস্তান্তর করেনি বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।
নিরীক্ষক আরও জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস)-৩৬ অনুযায়ি কোম্পানিটির ইউনিট-৩ এর (সিএনজি কনভারশন) স্থায়ী সম্পদ ইমপেয়ারমেন্ট বা বাজার দর যাচাই করা। কারণ এই ইউনিটটির আয় বছরের ব্যবধানে ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা থেকে ১১ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এছাড়া ওই ইউনিটটি গত বছরের ১৮ অক্টোবর বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইউনিট বন্ধের পরেও ব্যবসা ভালো নেই
লোকসানের কারনে ইউনিট-৩ বন্ধের পরেও ব্যবসায় উন্নতি হয়নি বিডি অটোকারসের। উল্টো কোম্পানিটির মুনাফা আরও কমেছে। এ কোম্পানিটির ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.০৫ টাকা। যার পরিমাণ এর আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল ০.০৬ টাকা। এ হিসাবে ইপিএস কমেছে ০.০১ টাকা বা ১৭ শতাংশ।
মুনাফা ও লভ্যাংশ দূর্বল
শেষ ৫ বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৫২ পয়সার মধ্যে আটকে আছে। এছাড়া লভ্যাংশ দিয়েছে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ৪০ পয়সা। কোম্পানিটির সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হয়েছে ইপিএস হয়েছে ১৮ পয়সা। এর বিপরীতে শুধুমাত্র সাধারন শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ২০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে বিডি অটোর সচিব শরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

