দুর্বল ব্যবসার মধ্যেই দুলামিয়া কটনের ১৬২ শতাংশ দর বৃদ্ধি

ফাইল ছবি
দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস–এর ব্যবসায়িক অবস্থা এখনো দুর্বল হলেও কোম্পানিটির শেয়ারদরে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখা গেছে। এ দর বৃদ্ধির পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পায়নি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দুলামিয়া কটনের শেয়ারদর হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা তলব করে ডিএসই। এর জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, কোনো ধরনের অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই তাদের শেয়ারদর এভাবে বাড়ছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২২ জুন দুলামিয়া কটনের শেয়ারদর ছিল ৬৫ টাকা ৫০ পয়সা, যা চলতি বছরের ১১ জুন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭১ টাকা ৬০ পয়সায়। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১০৬ টাকা ১০ পয়সা বা প্রায় ১৬২ শতাংশ।
অথচ কোম্পানিটির ব্যবসায়িক অবস্থান খুবই দুর্বল। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২৫–মার্চ ২০২৬) কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মাত্র ২০ পয়সা করে মোট ১৫ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।
এর আগে টানা লোকসানের ইতিহাস রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে চার বছরই লোকসান গুনতে হয়েছে দুলামিয়া কটনকে। এর মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৩৭ পয়সা করে মোট ১ কোটি ৪ লাখ টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১৩ পয়সা করে ৮৬ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯ পয়সা করে ৮৩ লাখ টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৮৮ পয়সা করে ৬৭ লাখ টাকা লোকসান হয়। তবে সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ২৫ পয়সা করে মোট ১৯ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে কোম্পানিটি।
দীর্ঘদিন লোকসানে থাকার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি দুলামিয়া কটন। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মুনাফায় ফেরার পর শেয়ারপ্রতি ৩০ পয়সা বা ৩ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা ও বিতরণ করা হয়।
১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন বর্তমানে ৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে ৬৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার।


