পতনের বাজারে মুনাফার দৌড়ে এগিয়ে যেসব কোম্পানি

প্রতীকী ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্ব অর্থনীতির উত্তাপ আর দেশীয় শেয়ারবাজারের টানা মন্দার মাঝেও মার্চ মাসে অবিশ্বাস্য এক চিত্র দেখা গেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। বাজারের সামগ্রিক সূচক নিম্নমুখী থাকলেও একসময়ের লোকসানি ও দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো, বিশেষ করে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) উঠে এসেছে দর বৃদ্ধির শীর্ষে।
ডিএসইর মাসিক তথ্যানুযায়ী, মার্চের শীর্ষ ১০ গেইনারের মধ্যে ৫টিই ছিল আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, যার শেয়ারের দাম ১০০ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৩.২০ টাকায়। এছাড়া প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দাম ৮৩.৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৩০ টাকায়। পিপলস লিজিং এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স উভয়ের দরই ৭৬.৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে থিতু হয়েছে ৩ টাকায়। এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টও পিছিয়ে নেই, প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর ৭০.৫৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৯০ টাকায়।
মার্চ মাসে ডিএসইতে শেয়ার লেনদেন হয়েছে মোট ৩৯০টি কোম্পানির। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৩টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির দাম। বাজারের এই দুর্বল প্রবণতার মাঝেও আর্থিক খাতের পাশাপাশি হামিদ ফ্যাব্রিকস, ফ্যামিলিটেক্স, এটলাস বাংলাদেশ এবং প্যাসিফিক ডেনিমসের মতো স্বল্প মূলধনী ও লোকসানি শেয়ারগুলো স্থান করে নিয়েছে দর বৃদ্ধির তালিকায়।
খাতভিত্তিক লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উৎপাদনমুখী খাত ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিমেন্ট ও খাদ্য খাত লেনদেন করেছে মোট লেনদেনের ৪৬.৮৬ শতাংশ বা ৪ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা নিয়ে গঠিত আর্থিক খাতের অবদান ছিল ২৯.৯৭ শতাংশ। অবশিষ্ট ২৩.০৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে সেবা ও বিবিধ খাতে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন তলানিতে পড়ে থাকার পর পুনর্গঠনের গুঞ্জনে হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে এসব এনবিএফআই শেয়ারের দাম। তবে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তারা বলছেন, মৌলিক ভিত্তি বা লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা না থাকলেও এই কৃত্রিম উত্থান হতে পারে শুধু স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং বা ফটকা কারবারিদের কারণে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা গিয়েছিল, যা বাজারের অস্থিরতাকেই ফুটিয়ে তুলছে।

