কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু এখন সময়ের দাবি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে এবং বাজারকে আরও গতিশীল করতে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা এখন সময়ের দাবি। খুব শিগগিরই ফিউচারস উইথ ক্যাশ সেটেলমেন্টের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো এই এক্সচেঞ্জের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এর প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভবনের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
সিএসইর উদ্যোগে শেয়ারবাজারের প্রতিনিধিদের জন্য দুই দিনব্যাপী কমোডিটি ডেরিভেটিভস বিষয়ক ‘ষষ্ঠ সার্টিফিকেট ট্রেনিং কোর্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এতে সিএসই ও ডিএসইর ট্রেক হোল্ডারসহ বাজারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএসইসির কমিশনার মো. নাফিজ আল তারিক কোর্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দেশে প্রথমবারের মতো কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠায় সিএসইর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।
নাফিজ আল তারিক বললেন, ‘বর্তমান বাজার কাঠামোর যেকোনো পর্যায় থেকেই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা এখন সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি। সিএসই ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়ার বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে। বাকি কাজগুলো দ্রুত এগিয়ে নিতে বিএসইসি নীতিগতভাবে সম্মত রয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, ‘দুই দিনের এই প্রশিক্ষণ বাজার সম্পর্কে পুরোপুরি জানতে হয়তো যথেষ্ট নয়। তবে এটি একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করবে। তাই চর্চা অব্যাহত রেখে নতুন এই বাজারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে দেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান। তিনি বললেন, ‘ইকুইটি মার্কেটকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি অন্যান্য সেগমেন্টগুলো দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। কমোডিটি ডেরিভেটিভস চালুর জন্য প্রযুক্তিগত ও রেগুলেটরি কাঠামো ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইকুইটি ডেরিভেটিভস চালুর জন্যও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। বর্তমানে ইকোসিস্টেম তৈরি ও মার্কেট প্রফেশনালদের দক্ষ করে তোলার কাজ চলছে। যারা ভবিষ্যতে ট্রেডিং টার্মিনালগুলো পরিচালনা করবেন।’
আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো কাঠামোটি লাইভ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম তার বক্তব্যে কমোডিটি মার্কেট স্থাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর বিভিন্ন সুবিধা ও চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি পুঁজিবাজারের এই নতুন দিগন্তের সঙ্গে যুক্ত হতে সবাইকে এখন থেকেই ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সিএসই ও বিএসইসির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।




