শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের রুচি বদলের ইঙ্গিত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শেয়ারবাজার দীর্ঘ মন্দাভাব কাটিয়ে ইতিবাচক ধারায় মোড় নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের রুচিতেও স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা দুর্বল শেয়ারের পেছনে না ছুটে এখন ‘এ’ ক্যাটাগরির তথা ভালো মানের মৌল ভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারের প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
বিদায়ী সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ গেইনার কোম্পানির তালিকা বিশ্লেষণ করলে বাজারের এই ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক দিকটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদায়ী সপ্তাহে সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে ‘জেড’ ক্যাটাগরির একটি কোম্পানির শেয়ার, যার শেয়ারের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘বি’ ক্যাটাগরির একটি কোম্পানির শেয়ার, যার দর বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে সাতটিই ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরির। এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম সপ্তাহ জুড়ে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তালিকার শেষ কোম্পানিটি ‘বি’ ক্যাটাগরির, যার শেয়ারের দর বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প মানের ও ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন ধীরে ধীরে নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানকারী, ভালো করপোরেট সুশাসনসম্পন্ন এবং আর্থিকভাবে শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ারের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ছে, লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের প্রতি চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে, যা একটি সুস্থ ও টেকসই বাজার গঠনের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ বলে তারা মনে করেন।






