অবশেষে পদত্যাগ করল বিএসইসির পুরো কমিশন

ছবি: আগামীর সময়
অবশেষে পদত্যাগ করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পাঁচ সদস্যের পুরো কমিশন।
এ তালিকায় রয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চারজন কমিশনার।
আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তারা জমা দেন পদত্যাগপত্র।
আগামীর সময়কে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
পদত্যাগ করা অন্য চার কমিশনার হলেন মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।
এদিকে বিএসইসি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসির চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২১ মাস ধরে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর, আমি আমার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য এই সরকারি পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা অত্যন্ত একটি উত্তাল সময়ে এই নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম এবং তাৎক্ষণিকভাবে আইনিকাঠামো ও বাজারশৃঙ্খলার এক দীর্ঘ আমূল সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলাম। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে, আমরা এরই মধ্যে পাঁচটি বিধিমালা (মার্জিন, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ডেট সিকিউরিটিজ, হুইসেলব্লোয়ার) গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করেছি। এ ছাড়া, আমরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় জনমতের জন্য ৩টি খসড়া বিধিমালা/নির্দেশিকা (করপোরেট গভর্নেন্স, অডিট, করপোরন্টেট পুনর্গঠন) প্রকাশ করেছি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) কর্তৃক পাসের জন্য আমরা দুটি আইনের খসড়াও (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন) তৈরি করেছি।
এতে আরও জানানো হয়েছে, বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলাম এবং কমপ্লায়েন্স বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। আমরা সমস্ত আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের প্রক্রিয়াগুলো দূর করেছি এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সম্পৃক্ততা কর্মসূচির মাধ্যমে বাজার, মধ্যস্থতাকারী ও ইস্যুকারীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায়ে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আমরা বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছি।
একটি পুনরুজ্জীবিত ও প্রাণবন্ত বিএসইসি টিমের মাধ্যমেই ওপরের এই সব পদক্ষেপগুলো সফল করা সম্ভব হয়েছে, যারা আরও বেশি কাজ করতে প্রস্তুত এবং আগ্রহী।
বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও বলেছেন, পুঁজিবাজারে একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যেতে পেরে আমরা গর্বিত। এই সুযোগে আমরা আমাদের সব সহকর্মী, অংশীজন এবং সরকারকে তাদের আন্তরিক সমর্থন ও প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই।’




