ফান্ডের পুনঃবিনিয়োগের সিদ্ধান্তে পুরনো বিতর্ক সামনে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের বে-মেয়াদি ফান্ডগুলোর ওপর লভ্যাংশ দেওয়ার কড়াকড়ি তুলে নেওয়ার মাধ্যমে পুনঃবিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এখন থেকে বে-মেয়াদি ফান্ডগুলো কোনো লভ্যাংশ না দিয়েও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। এর মাধ্যমে বিএসইসি পুনঃবিনিয়োগ নিয়ে পুরনো বিতর্ক সামনে নিয়ে এলো।
আজ বুধবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে ১০১৮তম জরুরি কমিশন সভা হয়। সেখানেই এই বে-মেয়াদি ফান্ডের পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
বিএসইসি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি চাইলে সম্পদ ব্যবস্থাপকের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারী ও শেয়ারবাজারের স্বার্থ বিবেচনায় অর্থবছর শেষে মুনাফা লভ্যাংশ আকারে না দিলেও পারবে। এই সুযোগের মাধ্যমে মুনাফাকে ফান্ডগুলোর জন্য পুনঃবিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ফিক্সড ইনকাম স্ক্রিমের বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে মুনাফার কমপক্ষে ৭০ শতাংশ, গ্রোথ স্ক্রিমের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ও অন্য সব বে-মেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এর আগে বিতর্কের মুখে ২০১৯ সালে মিউচুয়াল ফান্ডের পুনঃবিনিয়োগ বা লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট (আরআইইউ) পদ্ধতি বাতিল করে বিএসইসি। ওই সময় বে-মেয়াদি এবং মেয়াদি উভয় ধরনের ফান্ডের ক্ষেত্রেই শুধু নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার নিয়ম করা হয়। কোনো মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট হোল্ডারদের আর বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে না। এর মাধ্যমে ফান্ডগুলোর পুনঃবিনিয়োগ করার সক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অ্যাসেট ম্যানেজার আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘একসময় মিউচুয়াল ফান্ডগুলো বোনাস দেওয়ার মাধ্যমে পুনঃবিনিয়োগ করতে পারত। তবে সেটা নিয়ে এক শ্রেণি অনেক সমালোচনা করে। যাতে বিএসইসি বাতিল করে দেয় বোনাস পদ্ধতি। তবে সেই বিএসইসি এখন কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ারই বিধান করল। এর মাধ্যমে তারা সেই আগের পুনঃবিনিয়োগের পদ্ধতি চালু করল, সেটা একটু খারাপভাবে। অথচ আগে বোনাস দিয়ে পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ ছিল। আর এখন কিছু না দিলেও হবে।’
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম মন্তব্য করেন, ‘এই সিদ্ধান্তের ফলে বে-মেয়াদি ফান্ডগুলো ইউনিটহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দিলেও পারবে। এটা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে করা হয়েছে। কারণ নগদ লভ্যাংশে ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। তবে নতুন সিদ্ধান্তে লভ্যাংশ না দিলে ফান্ডের সম্পদ বাড়বে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা তাদের ইউনিট ফেরত দিয়ে বেশি টাকা তুলে নিতে পারবে। কিন্তু এর ওপর কর দিতে হবে না।’




