আড়াই বছরে আইপিও নেই
শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি আনার তাগিদ দিলেন বিএমবিএ সভাপতি

দেশের শেয়ারবাজারে গত আড়াই বছরে কোনো নতুন কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়নি। বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী ও মূলধন আনতে দ্রুত নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ইফতেখার আলম।
বুধবার ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।
ইফতেখার আলম উল্লেখ করেন, শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হলেও প্রায় আড়াই বছর ধরে নতুন পাবলিক ইস্যু না থাকায় বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী ও মূলধন প্রবেশের সুযোগ কমেছে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালে ইস্যু অব ক্যাপিটাল রুলস পরিবর্তন করা হলেও কোম্পানিগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রণোদনার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কোম্পানির মূল্যায়ন ও শেয়ারদর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থায় কিছু অসামঞ্জস্য থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হচ্ছে না।
তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ব্যবস্থার পার্থক্যও অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে আসতে যথেষ্ট উৎসাহিত করছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তালিকাভুক্তির পর করপোরেট গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্সের বিভিন্ন শর্ত সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
‘দেশের অধিকাংশ কোম্পানি পরিবারনির্ভর। ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুবিধা সম্পর্কে অনেক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখনো পর্যাপ্ত ধারণা তৈরি হয়নি। অনেক কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, কোম্পানি সেক্রেটারি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মধ্যেও তালিকাভুক্তির বিষয়ে অনাগ্রহ রয়েছে’—যোগ করেন বিএমবিএ সভাপতি।
তবে বর্তমান কমিশন এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মার্চেন্ট ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে নিয়ম পরিবর্তনে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইফতেখার আলম।
তিনি জানান, শুধু আইপিও নয়, সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগও আবার চালু করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে বন্ধ থাকা ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ সম্প্রতি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি খসড়া ডিরেক্ট লিস্টিং প্রবিধান তৈরি করেছে। এটি দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘অফার ফর সেল’ বা হাইব্রিড পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির সুযোগ চালু করায় কমিশনকে ধন্যবাদ জানান ইফতেখার আলম। তার ভাষ্য, এ ব্যবস্থায় এমন অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ পাবে, যাদের নতুন করে মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই, কিন্তু তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী।
তিনি উল্লেখ করেন, বহুজাতিক ও বড় স্থানীয় অনেক কোম্পানির নতুন অর্থের প্রয়োজন না থাকলেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে। আগে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না। ডিরেক্ট লিস্টিং ও অফার ফর সেলের মতো ব্যবস্থা তাদের বাজারে আসার পথ সহজ করবে।
ইফতেখার আলম বলেন, নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হলে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী ও অর্থও আসবে না। একটি ভালো আইপিও বাজারে এলে এর সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারী ও নতুন মূলধন প্রবেশ করে। তাই শেয়ারবাজারের লেনদেন ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা জরুরি।
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কোম্পানি আর্থিক সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এতে কোম্পানিগুলো মূলধন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে।
শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়াতেও নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাজারের বাজারমূলধন বাড়াতে নতুন ও ভালো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে একাধিক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির সুযোগসহ নতুন উদ্যোগগুলো বাজারের গভীরতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাবিত নতুন বিধিবিধান কার্যকর হলে কোম্পানিগুলোর সামনে শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ ও বিকল্প আরও বাড়বে। এতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাজারে নতুন কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও মূলধন প্রবেশের পথ তৈরি হবে।



