বিনিয়োগ ও ভাড়া থেকে মুনাফায় জিকিউ বলপেন

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জিকিউ বলপেনের উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। কাঁচামাল ও উৎপাদনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপকরণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। তবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, স্থায়ী আমানতের সুদ এবং ভবন ভাড়া থেকে আয় হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফায় ফিরেছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ৫১ পয়সা লোকসান হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লোকসান কাটিয়ে সামান্য মুনাফায় ফিরেছে কোম্পানিটি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানিটির প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, চলতি বছরে শেয়ারপ্রতি ৬ পয়সা মুনাফার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়, স্থায়ী আমানতের সুদ এবং উত্তরার জিকিউ শেফালী টাওয়ারের ভাড়া। এসব খাত থেকে আয় না হলে উৎপাদন কার্যক্রমের লোকসানের কারণে সামগ্রিক আর্থিক ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির পরিচালন লোকসান উল্লেখযোগ্য হয়েছে। বিশেষ করে কাঁচামাল ও উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণের ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ বা এনওসিএফপিএস ঋণাত্মক ৬ পয়সা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ সূচক ছিল ইতিবাচক ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ মুনাফায় ফিরলেও কোম্পানিটির পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহে অবনতি হয়েছে।
এদিকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪২ টাকা ৭ পয়সা। গত ৩০ জুন এ অঙ্ক ছিল ১৪৩ টাকা ৬০ পয়সা। তিন মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমেছে ১ টাকা ৫৩ পয়সা।
সব মিলিয়ে উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যয় বৃদ্ধির চাপের মধ্যে বিনিয়োগ, সুদ ও ভাড়া থেকে আয় করে মুনাফায় ফিরেছে জিকিউ বলপেন। তবে নগদ অর্থপ্রবাহের অবনতি কোম্পানিটির আয় ও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।



