দুর্নীতি রোধে অগ্রগতি নেই লাল তালিকায় ৩৪ সূচক
- এসডিজি বাস্তবায়ন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দুর্নীতি প্রতিরোধে বাংলাদেশের অগ্রগতি খুব কম। ধরতে গেলে নেই বললেই চলে। এ কারণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতিসহ ৩৪টি সূচক রয়েছে লাল তালিকায়। এটি খুব খারাপ অবস্থা বোঝাতে লাল চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। তবে ভালো অবস্থায় অর্থাৎ সবুজ তালিকায় আছে ২৯টি, মোটামুটি ভালো হলুদ তালিকায় ১৭টি এবং আংশিক ভালো কমলা তালিকায় রয়েছে ১৫টি সূচক। যদিও ২০২৬ সালের সার্বিক এসডিজি বাস্তবায়নে চার ধাপ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট) এসব তথ্য উঠে এসেছে। এটি যৌথভাবে তৈরি করেছে ডাবলিন ইউনিভার্সিটি প্রেস, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশন নেটওয়ার্ক এবং এসডিজি ট্রান্সফরমেশন সেন্টার। গত ২৩ জুন এটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতি বছর এই মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এসডিজি ফোকাল পয়েন্ট মো. আলমগীর হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, এই প্রতিবেদনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এখানে অগ্রগতির যে চিত্র পাওয়া গেছে, এতে এসডিজির কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়নে শঙ্কা আছে। কেননা এরই মধ্যে ১১ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। সামনে আছে আর চার বছর।
অর্থাৎ ২০৩০ সালে শেষ হবে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি। এটি এমন একটি লক্ষ্যমাত্রা, যেটি গতানুগতিকভাবে এগোলে হবে না। আগের সরকারগুলো সেভাবেই এগিয়েছিল; কিন্তু বর্তমান সরকার যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছে, এর ৪৮১টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৩৫২টি অর্থাৎ ৭৩ শতাংশ সরাসরি এসডিজি অর্জনে ভূমিকা রাখবে। ১০৮টি বা ২৩ শতাংশ সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া ১১টি বা ২ শতাংশ আংশিক এবং ১০টি বা ২ শতাংশ ন্যূনতম ভূমিকা রাখবে।
মো. আলমগীর হোসেন আরও বলেছেন, যেভাবে বাংলাদেশ এগোচ্ছে, এতে এসডিজি সূচকগুলোর মধ্যে কিছু লক্ষ্য অর্জন হবে, কিছু কাছাকাছি থাকবে এবং কিছু আংশিক বাস্তবায়ন হবে। তবে সময় স্বল্পতা হলো এসডিজি বাস্তবায়নে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেও সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার যদি শক্ত থাকে তাহলে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সূত্র জানায়, ২০১৬ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির বাস্তবায়ন। ১৭টি প্রধান লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে অনেকগুলো আলাদা সূচক। আন্তর্জাতিক এ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, সার্বিকভাবে এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের চার ধাপ অগ্রগতি হয়ে স্কোর দাঁড়িয়েছে ১১০-এ। ২০২০ সালের মূল্যায়নে এ স্কোর ছিল ১০৭, ২০২৩ সালে ১০১-এ দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে ১৩ ধাপ পিছিয়ে স্কোর হয়েছিল ১১৪। এবার ২০২৬ সালে এসে চার ধাপ এগোল। এ ওঠানামা প্রসঙ্গে আলমগীর হোসেন বলেছেন, কভিডের প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যসহ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এসডিজি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতাকে বিঘ্নিত করেছে। ফলে এ রকম ওঠানামার চিত্র দেখা যায়।
এসডিজির লাল তালিকায় থাকা সূচকগুলো হলো— যক্ষ্মার প্রকোপ, বায়ুদূষণে অকাল মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, কিশোরীদের প্রজনন হার, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্তির হার, শ্রমশক্তিতে নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির কম ব্যবহার, দুর্নীতি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচারের প্রাপ্যতা এবং সামর্থ্য, রাজস্ব আদায়, স্যানিটেশন পরিষেবা এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দক্ষ হিসাবধারী। এ ছাড়া শ্রম অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিতকরণ, বস্তিতে বসবাসকারী শহুরে জনসংখ্যার অনুপাত, শহরে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে সুবিধা এবং সাজাপ্রাপ্ত নয় এমন/বিচারাধীন বন্দি। আরও আছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খর্বকায়তা ও কৃশতার প্রাদুর্ভাব, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতিতে জন্মদান, ব্যক্তিনিষ্ঠ কল্যাণ, মৌলিক স্যানিটেশন পরিষেবা ব্যবহারকারী জনসংখ্যা, মানবসৃষ্ট বর্জ্য পানিতে যাওয়া, রান্নার জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও প্রযুক্তির সুবিধার আওতাভুক্ত জনসংখ্যা এবং মৌলিক শ্রম অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিতকরণ। আরও কয়েকটি হলো, আবেদনকারীর উৎস অনুযায়ী মোট পেটেন্ট আবেদন, বস্তিতে বসবাসকারী শহুরে জনসংখ্যার অনুপাত, পিএম২ দশমিক ৫-এর বার্ষিক গড় ঘনত্ব, পাইপলাইনের মাধ্যমে উন্নত পানির উৎসে প্রবেশাধিকার, জীববৈচিত্র্যের জন্য সামুদ্রিক, স্থলজ ও স্বাদু পানির সুরক্ষিত এলাকা, ক্লিন ওয়াটারস স্কোর, বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে জন্মনিবন্ধন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সরকারি ব্যয়।




