পিআরআইর আলোচনা
রাজস্ব বাড়াতে চীনের কর সংস্কার অনুসরণের পরামর্শ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়াতে চীনের কর সংস্কারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, চীনের মতো কর ব্যবস্থায় পরোক্ষ করের পাশাপাশি রাজস্ব ও ব্যয়ের দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন, সম্পত্তি কর আধুনিকায়ন এবং স্থানীয় সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী করার উদ্যোগ বাংলাদেশেও কার্যকর হতে পারে।
বৃহস্পতিবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘চীনের কর ব্যবস্থা ও সংস্কার: বাংলাদেশের রাজস্ব সংগ্রহের জন্য শিক্ষণীয় দিক’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। পিআরআই সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।
বক্তৃতায় চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ভাইস ডিন জিং ঝাং চীনের কর ব্যবস্থা ও সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেছেন, চীন পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভরশীল। দেশটির মোট কর রাজস্বের প্রায় ৬৫ শতাংশ আসে পরোক্ষ কর থেকে। এর মধ্যে ভ্যাট অন্যতম উৎস। অন্যদিকে করপোরেট আয়কর থেকে ২৬ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত আয়কর থেকে ৯ শতাংশ রাজস্ব আসে।
অধ্যাপক ঝাং চীনের কর সংস্কারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপও তুলে ধরেন। ১৯৮৪-৮৫ সালের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ‘মুনাফা থেকে কর’ সংস্কার এবং ১৯৯৩-৯৪ সালের কর ভাগাভাগি ব্যবস্থা সংস্কারের ফলে জাতীয় রাজস্বে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ প্রায় ২০ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছায়।
আলোচনায় চীনের ‘ল্যান্ড ফাইন্যান্স’ মডেলও গুরুত্ব পায়। ভূমি ব্যবহারের অধিকার বিক্রি থেকে পাওয়া রাজস্ব স্থানীয় সরকারগুলো অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করত। এর ফলে বিভিন্ন শহরের দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশের জন্য চীনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরেন অধ্যাপক ঝাং। এগুলো হলো— সরকারের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে রাজস্ব ও ব্যয়ের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে বণ্টন, সম্পত্তি-সম্পর্কিত রাজস্ব ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিজস্ব রাজস্ব আহরণ আধুনিকায়ন।







