স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্স পেতে লাগবে বিআইএন

সংগৃহীত ছবি
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কর ও ভ্যাটের আওতায় আনতে সারা দেশে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেওয়ার সময় বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। এনবিআরের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক স্বর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ও এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ বা প্রায় আট হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধিত। বাকি প্রায় ৩২ হাজার প্রতিষ্ঠান এখনো ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে। আবার নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও নিয়মিত ভ্যাট দেয় মাত্র দেড় হাজার। ফলে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার বিক্রি থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে মাত্র ১৩৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণালংকার বিক্রিতে আড়াই হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হয়। তবে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন না থাকায় তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর রাজস্ব বিভাগের নজরদারি সীমিত থাকে। এতে ক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করা হলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে নিয়মিত ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করতেই নতুন এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন) সৈয়দ মুসফিকুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, জুয়েলারি খাত রাজস্ব আদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। তবে এ খাতের বড় একটি অংশের ব্যবসায়ী নিয়মিত ভ্যাট দেন না। তাদের ভ্যাটের আওতায় আনতে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জুয়েলারি খাত থেকে রাজস্ব আদায় কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিআইএন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায় এনবিআর। চিঠিতে স্বর্ণ নীতিমালা ২০১৮ (সংশোধিত ২০২১) এবং স্বর্ণ ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণ-সংক্রান্ত ১৯৮৭ সালের আদেশের উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিধান অনুযায়ী, স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের ব্যবসা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। এনবিআরের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, স্বর্ণ ব্যবসায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন নিশ্চিত করা এবং তাদের করসংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো। বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলে লাইসেন্সধারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভ্যাট পরিশোধ ও করসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



