পোশাক খাতের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় তহবিল চায় বিজিএমইএ

সংগৃহীত ছবি
তৈরি পোশাক খাতের পানি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্যপানি পরিশোধন ও পুনর্ব্যবহারে বড় পরিসরে অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য পোশাকশিল্প এলাকাতেও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় পরিচালিত প্রকল্প সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিশ্বব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে বিজিএমইএ।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, পানি ব্যবস্থাপনা এখন শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। ইউরোপীয় ব্র্যান্ডসহ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পোশাক উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে পানির ব্যবহার কমানো, বর্জ্যপানি পরিশোধন ও পুনর্ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অবস্থান ধরে রাখতে পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। তবে এসব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ব্যয় বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তাদের একার পক্ষে দ্রুত এই রূপান্তর বাস্তবায়ন করা কঠিন।
বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ বা ‘ডি-ওয়াটার’ এবং এর আওতায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভিজিএফ পাইলট প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
বিজিএমইএ জানায়, প্রাথমিকভাবে ৩১টি কারখানার তালিকা দেওয়া হলেও বিশ্বব্যাংক আটটি কারখানাকে নিয়ে কাজ শুরু করবে।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, পোশাকশিল্পের ব্যাপক চাহিদার তুলনায় বর্তমান তহবিল ও প্রকল্পের আওতা অপ্রতুল। পানি ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি, বর্জ্যপানি পরিশোধন ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা স্থাপনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে পোশাকের ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় উদ্যোক্তাদের একার পক্ষে এই ব্যয় বহন করা ঝুঁকিপূর্ণ।
এ অবস্থায় বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের অনুদান, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ কিংবা শূন্য সুদে সহজ শর্তে অর্থায়নের আহ্বান জানায় বিজিএমইএ। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের অর্থায়ন পাওয়া গেলে পোশাক খাতের সবুজ রূপান্তর আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। অনেক কারখানায় বর্জ্যপানি পরিশোধনাগার স্থাপনের জায়গা থাকলেও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ সুবিধা নেই। আবার ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার পক্ষে পৃথকভাবে বড় পরিশোধনাগার স্থাপন করাও কঠিন। এ অবস্থায় লরি বা ট্যাংকারের মাধ্যমে শিল্পবর্জ্য অপসারণ এবং শিল্পাঞ্চলভিত্তিক ক্লাস্টার শোধনাগার স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পাশাপাশি টেকসই বিনিয়োগ বাড়াতে পরিবেশগত নীতি ও নিয়মে স্থিতিশীলতা এবং পূর্বাভাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয় বিজিএমইএ।
বিজিএমইএর প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবুজ ও টেকসই রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক মারা কে. ওয়ারউইকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। এতে বিজিএমইএ পরিচালক ড. মো. হাসিব উদ্দিন, বিশ্বব্যাংকের লিড ওয়াটার স্পেশালিস্ট ডেভিড মেলকম লর্ড, সিনিয়র ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন স্পেশালিস্ট রোকেয়া আহমেদ, ওয়াটার স্পেশালিস্ট মো. মাহাদী হাসান এবং এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট বুশরা নিশাত উপস্থিত ছিলেন।



